আশিস মণ্ডল, শান্তিনিকেতন, ২৬ আগস্টঃ ‘উপাচার্য গো ব্যাক’। তিন ছাত্রকে বহিস্কারের প্রতিবাদে এবার এই আওয়াজ তুলে আন্দোলনের পারদ চড়াল ছাত্রছাত্রীরা। সেই সঙ্গে বৃহস্পতিবার রাস্তায় নেমে বিশ্বভারতীর উপাচার্যের বিরুদ্ধে তীব্র ধিক্কার ধ্বনিত হল ছাত্র-যুবদের গলায়। যদিও এনিয়ে বিশ্বভারতীর পক্ষ থেকে কোন বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

বিশ্বভারতীর তিন পড়ুয়ার অমূলক বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ের বার্তা নিয়েই এদিন বিক্ষোভ মিছিল সংঘটিত হয় বোলপুরে। ‘গো ব্যাক ভিসি’, ‘স্বেচ্ছাচারি উপাচার্য দূর হঠো’-এই আওয়াজই চড়া হয়েছে ছাত্র-যুবদের স্লোগানে। বোলপুর হাইস্কুলের সামনে থেকে এদিন শুরু হয়েছিল এসএফআই-ডিওয়াইএফআইয়ের বিক্ষোভ মিছিল। উপাচার্যর কলকাঠিতে তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভীত্তিতে বিশ্বভারতীর তিন পড়ুয়াকে তিন বছরের জন্য বহিষ্ককারের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে এই স্পষ্ট দাবিতেই রাস্তায় রয়েছে ছাত্রছাত্রীরা। এদিনও তা অব্যাহত থেকেছে। বিশ্বভারতী, বোলপুর মহকুমার নানা স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীরা এই দাবির স্বপক্ষে আওয়াজ তুলেই এদিন পথ হেঁটেছেন বোলপুর শহরে। বিক্ষোভ মিছিল শহর ঘুরে বকুলতলায় এসে শেষ হয়েছে। সেখানেই হয়েছে বিক্ষোভ সভা। বিক্ষোভ সভায় এসএফআই, বীরভূম জেলা কমিটির সভাপতি দেবাশিস সরকার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “স্রেফ তাঁর গা জোয়ারি সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করায় একজন উপাচার্য তার পড়ুয়াদের সাথে এতটা কঠোর হতে পারেন বিশ্বভারতীর মত প্রতিষ্ঠানে তা স্তম্ভিত করেছে সকলকে। তাই আমরা এই মুহুর্তেই জানান দিচ্ছি, এই সিদ্ধান্ত যদি প্রত্যাহার না হয় আমরাও উপাচার্যের ঘুম উড়িয়ে ছাড়ব”। সকালে বোলপুরে প্রতিবাদের পর বিকেলে সিউড়িতেও একই দাবিতে সংঘটিত হয়েছে প্রতিবাদ।

এদিন মিছিল থেকে উপাচার্যকে ধিক্কার জানানোর পাশাপাশি আরএসএস’র মদতে উপাচার্যের রবীন্দ্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গেরুয়াকরনের প্রয়াস রোখার প্রত্যয়ও ধ্বণিত হয়েছে। এসএফআই, বীরভূম জেলা কমিটির সম্পাদক ওয়াসিফ ইকবাল জানিয়েছেন, “সবে শুরু। যত দিন যাবে আন্দোলনের তীব্রতা ততই বাড়বে। শেষ দেখে ছাড়বে ছাত্র-যুবরা”। এদিন বিক্ষোভ সভায় বক্তব্য রেখেছেন বিশ্বভারতীর পড়ুয়া স্নেহজিৎ চক্রবর্তী, এসএফআই নেতা সাগ্নিক লাহা এবং আরওয়াইএফ’র নেতা রঞ্জিত মজুমদার।

প্রসঙ্গত, গত ২৩ আগস্ট রাত্রেই বিশ্বভারতীর অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র তথা এসএফআই নেতা সোমনাথ সৌ, হিন্দি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ছাত্রী রূপা চক্রবর্তী ও অপর ছাত্রনেতা ফাল্গুনী পানকে তিন বছরের জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত লিখিতভাবে জানিয়েছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি ছাতিমতলায় এক অনুষ্ঠান চলাকালীন সুনির্দিষ্ট ও যুক্তিগ্রাহ্য দাবি নিয়ে শান্তিপূর্ন অবস্থানে সামিল হয়েছিলেন পড়ুয়ারা। সেই অবস্থান বিক্ষোভ ‘বিশ্বভারতীর সন্মানহানিকর’,‘শৃঙ্খলাভঙ্গ’ এর পাশাপাশি অর্থনীতি বিভাগে ‘ভাঙচূরে’র অভিযোগ এনে তিন পড়ুয়াকে সাসপেন্ড করে বিশ্বভারতী। গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি। নানা টালবাহানায় গত সোমবার পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সত্য এবং ঘটনায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ওই তিন পড়ুয়া এমনই দাবি করা তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে তিন পড়ুয়াকে তিন বছরের জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের কথা জানায় বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। বহিষ্কৃত পড়ুয়াদের কাছে পৌঁছনো কর্তৃপক্ষের চিঠিতে বলা হয়েছে, পড়ুয়াদের যদি কোনো বক্তব্য থাকে বা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবার জন্য যদি তারা আবেদন করতে চান তাহলে আগামী ২৭ আগস্টের মধ্যে বিশ্বভারতীর প্রোক্টরের কাছে আবেদন করতে পারবে। ওই দিনের মধ্যে আবেদন না করলে তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হবে।

