নারায়ণগড়ে তৃণমূল কর্মী খুনের ঘটনায় গ্রেফতার দলেরই তিনজন 

জে মাহাতো, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ২৬ অক্টোবর: নারায়ণগড়ে আট মাস আগে এক তৃণমূল কর্মী খুনের ঘটনায় দলেরই তিনজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগড় থানার মকরামপুর পঞ্চায়েতের অভিরামপুর গ্রামে তৃণমূল কর্মী সৌভিক দলুই (২৪) গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। চিকিৎসা কেন্দ্রে ওইদিনই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার আটমাস পর তার খুনের ঘটনায় গতকাল অর্থাৎ সোমবার রাতে তিনজনকে পুলিশ গ্রেফতার করল। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা হলেন অমিত মণ্ডল, সীতারাম মুর্মু ও সন্দীপ মেটিয়া। ধৃতদের আজ আদালতে তোলা হয়। তিনজনই তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত। মকরামপুর অঞ্চলে তৃণমূলের আভ্যন্তরীণ একটি গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ছিল বলে জানাগেছে।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি গুলি ও বোমাবাজিতে তৃণমূল কর্মী সৌভিক দলুই গুলিবিদ্ধ হন। বোমাবাজিতে আহত হয়েছিলেন ধৃত সীতারাম ও অমিত মণ্ডল। সেই ঘটনায় পুলিশ সোমবার রাতে তিনজনকে গ্রেফতার করে। 

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে চার তৃণমূল কর্মীর উপর বোমাবাজি ও গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। তার মধ্যে তৃণমূল কর্মী সৌভিকের পিঠে গুলি লাগে এবং দুই তৃণমূল কর্মী বোমায় আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালে এবং পরে সেখান থেকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। মেদিনীপুর মেডিক্যালের চিকিৎসকরা সৌভিককে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মকরামপুর এলাকায় তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের অভিযোগ উঠলেও ব্লক তৃণমূল সভাপতি মিহির চন্দ্র সেই সময় বলেন, “কেউ বা কারা এসে তৃণমূলের চার কর্মীর উপর হামলা চালিয়েছে। বোমাবাজি করেছে। তাতে তিনজন আহত হয়েছে।” সেদিন ঘটনার খবর পেয়ে  বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (খড়গপুর) রাজা মুখোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে পৌঁছান। আহতদের খড়্গপুর হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর সময় খড়্গপুর টাউন থানার পুলিশ হাজির ছিল।

সেদিন অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (খড়্গপুর) রাজা মুখোপাধ্যায় বলেন, “বাইকে করে তিনজন এসে হামলা চালিয়েছে। গুলি বিদ্ধ হয়েছে সৌভিক দোলই, বোমায় আহত হয়েছেন সীতারাম মুর্মু ও অমিত মন্ডল।

আহত সীতারাম সেদিন বলেন, “অভিরামপুর গ্রামে চার তৃণমূল কর্মী বসে গল্প করছিলাম। সে সময় বাইকে করে তিনজন এসে বোমা ছোড়ে। একই সাথে গুলিও চালায়। তাতে সৌভিকের পিঠে গুলি লাগে। এক বন্ধু কোনও রকমে রক্ষা পেলেও বাকি দু’জন বোমায় আহত  হন।” সীতারাম বলেন, “বেশ কিছু দিন ধরে তারা দলের হয়ে তেমন কাজ করছিলেন না। যাকে অঞ্চল সভাপতি করা হয়েছে তাকে এক সময় বহিষ্কার করা হয়েছিল। তাকে ফের দলে দায়িত্ব দেওয়ায় তারা বসে গিয়েছিল। সে কারণে তাদের উপর হামলা হতে পারে।” 

গুলিতে নিহত তৃণমূল কর্মীর মৃতদেহের ময়না তদন্ত হয় মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নারায়ণগড় থানায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। কেউ বা কারা গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ। 

ঘটনার দিন সৌভিককে ফোন করে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে নিহত সৌভিক দোলুইয়ের মা সুনিতা দোলুই। তিনি সেদিন অভিযোগ করেন, “তৃণমূলের কর্মী ছিল সৌভিক। তাকে হুমকি দেওয়া হত। কিন্তু তার পরিণাম যে এতো ভয়ঙ্কর হবে তা বুঝতে পারিনি। যারা মেরেছে তাদের কঠোর শাস্তির দাবি করছি।”

এদিকে প্রতিবেশীরা জানিয়েছিলেন, ঘটনার পিছনের দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থাকতে পারে। ব্লক সভাপতি মিহির চন্দ্র সেদিন বলেন, দলের কর্মী ছিলেন সৌভিক। কে বা কারা মারলো তা তদন্ত করছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *