পুরুলিয়ার তিন প্রজন্ম হাত ধরাধরি করে চাক্ষুষ করলেন ‘বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেন’

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২৪ সেপ্টেম্বর: বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেন দেখতে উপচে পড়ল ভিড়। তিন প্রজন্ম চাক্ষুষ করলেন অত্যাধুনিক সুসজ্জিত এই বিশেষ ট্রেন। পুরুলিয়া স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম কার্যত জন সমুদ্রে পরিণত হয়। ট্রেন আসার এক ঘণ্টা আগে থেকেই কৌতূহলীদের চাক্ষুষ করার উৎসাহ দেখা গিয়েছে। ট্রেন ঢুকতেই ফুলের পাঁপড়ি ছড়িয়ে স্বাগত জানান সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, বিধায়ক কমলাকান্ত হাঁসদা, নরহরি মাহাতো, নদিয়ার চাঁদ বাউরি সহ বিশিষ্টজনেরা। ছিলেন আদ্রা ডিভিশনের ডিআরএম সুমিত নারুলা সহ পদস্থ আধিকারিকরা। ট্রেনের চালক সহ চালকদের সংবর্ধনা জানান তাঁরা।

রাঁচি থেকে কোটশিলা দিয়ে পুরুলিয়া স্টেশনে পৌঁছায় ট্রেনটি। ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী থাকতে কোটশিলা স্টেশন ও পুরুলিয়ায় উপস্থিত ছিলেন হাজারও উৎসাহী মানুষ। মুঠো ফোনে বিশেষ মুহূর্ত বন্দি করার হিড়িক ছিল দুটি স্টেশনেই। কোটশিলা স্টেশনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালদা ২ ব্লকের বিডিও অঙ্কিতা উপাধ্যায়। তিনি ঐতিহাসিক মুহূর্তের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “কোটশিলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ইতিহাস ছড়িয়েছে। প্রিমিয়াম শ্রেণির ট্রেন দাঁড়ানোয় এই ঐতিহাসিক স্থানকে আরও গুরুত্ব বাড়িয়ে দিল। এছাড়া শিল্প ক্ষেত্রের এবং পর্যটন শিল্পের প্রসার ঘটাবে বলে আমার বিশ্বাস।” পুরুলিয়া থেকে টাটানগর, খড়্গপুর দিয়ে হাওড়া রওনা দেয় ট্রেনটি। আর এর মধ্যেই তৃণমূল ও বিজেপির কাজিয়া শুরু হয়ে যায়।

পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়া বলেন, “বিতর্ক আর রাজনৈতিক কাজিয়া বাড়িয়ে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হল।” তাঁর দাবি, রেল মন্ত্রী থাকাকালীন পুরুলিয়াবাসীর জন্য প্রচুর ট্রেন উপহার দিয়েছেন। তাঁরা সেগুলি পেয়ে প্রভূত উপকৃত হয়েছেন। বিজেপি রাজনীতি করে অধিকাংশ ট্রেন বন্ধ করেছে। এছাড়া অনিয়মিত করে, ভাড়া বাড়িয়ে মানুষকে সমস্যায় ফেলেছে। সেই আঙ্গিকে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস লোকসভা ভোটের চমক ছাড়া কিছুই নয়।

অন্যদিকে, এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস দুর্নীতির ট্রেন করেছে। মোদীজি ভারতকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছেন। আর তৃণমূল শুধু রাজনীতি করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *