খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২১ নভেম্বর: ধীরে ধীরে কদর কমছে লাইব্রেরির। বর্তমান ব্যস্ততার যুগে লাইব্রেরিতে বসে নানান ধরনের বই পড়ার সময় মানুষের হাতে আর নেই। কিন্তু তাতে কি? আইআইটি খড়্গপুরে রয়েছে ডিজিটাল লাইব্রেরি, যা বিশ্বক্ষেত্রে এক বিশেষ অধ্যায়ের সূচনা করেছে। আক্ষরিক অর্থে গ্রন্থাগারে বসে বই পড়া নয়, এবার সমস্ত ধরনের বই, জার্নাল পাওয়া যাবে ডিজিটালি। প্রযুক্তিবিদ্যার শ্রেষ্ঠ ঠিকানা আইআইটি খড়্গপুরে রয়েছে এই ন্যাশনাল ডিজিটাল লাইব্রেরি। এই ন্যাশনাল ডিজিটাল লাইব্রেরির বিকাশে তিন দিনের বিশেষ আন্তর্জাতিক কর্মশালার আয়োজন হল আইআইটি খড়্গপুরে। উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্টজনেরা।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে প্রযুক্তি নির্ভর সমাজে ব্যস্ততার সময়ে বই পড়া হয়ে ওঠে না। তবে যাদের নেশা রয়েছে বই পড়ার প্রতি, তারা অনলাইনে নানান ধরনের বই, জার্নাল ও বিভিন্ন ধরনের লেখা পড়েন। তবে তাদের জন্যই ২০১৫ সালের প্রথম পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে ডিজিটাল লাইব্রেরির পথচলা শুরু হয়। এরপরে ২০১৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা হয় ন্যাশনাল ডিজিটাল লাইব্রেরির। ভারত সরকারের শিক্ষা মন্ত্রকের অধীনস্থ ন্যাশনাল ডিজিটাল লাইব্রেরিতে ১০০ মিলিয়নেরও বেশি বিষয়বস্তু এবং প্রতিদিন প্রায় আড়াই থেকে সাড়ে তিন লক্ষ কনটেন্ট পড়া এবং ডাউনলোড সম্ভব। শুধু ভারতবর্ষেই নয়, সারা বিশ্বের কাছে এটি এক অনন্য নজির। ভারত সরকারের তত্ত্বাবধানে আইআইটি খড়্গপুর দ্বারা বাস্তবায়িত এই ডিজিটাল লাইব্রেরি গবেষক, পড়ুয়া, শিক্ষাবিদ, শিক্ষাকর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে আইআইটি খড়্গপুরে শুরু হল তিন দিনের বিশেষ আন্তর্জাতিক সেমিনার। শিক্ষার ন্যায়সঙ্গত এবং টেকসই উন্নয়নের প্রচারে ডিজিটাল লাইব্রেরির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করার জন্য বিশ্বজুড়ে বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, গবেষক, নীতিনির্ধারক এবং অনুশীলনকারীদের একত্রিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এই তিন দিনের সেমিনারে উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা তাদের মতামত পেশ করেন। জ্ঞানের বিস্তার এবং ডিজিটাল লাইব্রেরির আগামী ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশেষ আলোচনার হয়।
এই বিশেষ সেমিনারের উদ্বোধন করেন ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি ধারওয়ার্ড এর ডিরেক্টর ভেনকাপ্যায়া আর দেশাই।


