তারাপীঠ থানায় বিক্ষোভ দেখানোয় গ্রেফতার তিন বিজেপি কর্মী

আমাদের ভারত, বীরভূম, ১১ নভেম্বর: মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে গ্রেফতার হলেন তিন বিজেপি কর্মী। তাদের শনিবার রামপুরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তিনজনকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠান। পাশাপাশি ১৬ নভেম্বরের মধ্যে কেস ডায়েরি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন পুলিশকে।

জানাগিয়েছে, তারাপীঠ থানার ওসির বিরুদ্ধে তোলাবাজি, পক্ষপাতিত্ব, বিজেপি কর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো সহ একাধিক অভিযোগে শুক্রবার বিকেলে তারাপীঠ থানায় বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি। যাতে নেতৃত্ব দেন বিজেপির বীরভূম জেলা সাংগঠনিক সভাপতি ধ্রুব সাহা। বিজেপি কর্মীদের আটকাতে থানার সামনে ব্যারিকেড গড়ে তুলেছিল পুলিশ। বিজেপি সেই ব্যারিকেড ভেঙ্গে থানা কম্পাউন্ডের মধ্যে ঢুকে পড়ে। সেই সঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ধ্রুব সাহা তারাপীঠ থানা তুলে দেওয়ার হুমকি দেন। এমনকি মানুষ ওসিকে দ্বারকা নদীতে ছুঁড়ে ফেলবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন ধ্রুববাবু। এই ঘটনার পরেই পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা, জেলা সহ সভাপতি নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়, রূপা মণ্ডল, সাধারণ সম্পাদক তারকনাথ চট্টোপাধ্যায় সহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে ১০০ জনের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় শুক্রবার রাতেই চিরন মাল, উত্তম লেট এবং বাপি ভুঁইমালী নামে তিন বিজেপি কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শনিবার তাদের রামপুরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। সেই সঙ্গে পুলিশকে ১৬ নভেম্বরের মধ্যে কেস ডায়েরি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ধৃতরা বলেন, ওসি কয়লা, বালি অবৈধভাবে ভাবে পাচারে সহযোগিতা করছে অর্থের বিনিময়ে। এর বিরুদ্ধেই আমাদের মূল আন্দোলন। তাই পুলিশ রাতের অন্ধকারে আমাদের ধরে নিয়ে এসে থানার মধ্যে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে। দলের বিরুদ্ধে কু-কথা বলেন”।

ধৃতদের আইনজীবী অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় বলেন, “ধৃতদের বিরুদ্ধে ৪২৭, ৪৪৭, ১৮৬, ৩৫৩, ৫০৫, ৩৪ ধারায় সরকারি কাজে বাধা, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, সরকারি কর্মস্থলে অনধিকার প্রবেশ এবং ১৯৮৪ সালের থ্রি প্রিভেনশন অফ ড্যামেজ পাবলিক প্রোপার্টি ধারায় মামলা করা হয়েছে”।

ধ্রুব সাহা বলেন, “আইনকে আমরা শ্রদ্ধা করি। তবে পুলিশের এই একতরফা মামলার বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন চলবে। আমরা পুলিশের দলদাসের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাব। কোনো মামলাই আমাদের মনোবলে চির ধরাতে পারবে না”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *