দু’বছর ধরে বিলের সাড়ে তিন কোটি টাকা বকেয়া, রক্ষণাবেক্ষণের কাজ বন্ধ করে আন্দোলন জলপাইগুড়ি জেলা জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের কন্ট্রাক্টর অ্যাসোসিয়েশনের

আমাদের ভারত, জলপাইগুড়ি, ৫ জুলাই: ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কাজ করার পর থেকে বিলের মোটা অঙ্কেট টাকা বকেয়া। এছাড়া সরকারি ভাবে সরবরাহ করা পানীয় জলের লাইনের রক্ষণাবেক্ষণের টাকাও বকেয়া রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ বন্ধ করে ব্যানার পোস্টার নিয়ে আন্দোলনে নামলো জেলা জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের কন্ট্রাক্টর অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের বক্তব্য, যতদিন পর্যন্ত তাদের বকেয়া মেটানো না হবে, ততদিন তারা জল এবং জলের লাইনের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ বন্ধ রাখছেন। তবে বিশেষ কিছু জায়গায় তারা এই বিষয়ে ছাড় দেবেন।

এদিন সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকার জায়গায় পানীয় জল সরবরাহ থেকে শুরু করে বিভিন্ন কাজের জন্য ব্যবহৃত জল, তাদের শৌচাগার তৈরি, রান্না ঘর তৈরি কাজ, এছাড়াও স্ট্রংরুম এবং বুথগুলিতেও প্রায় ১৫০ জন ঠিকাদার কাজ করেছিলেন টেন্ডারের মাধ্যমে। বিধানসভা নির্বাচন পার হয়ে যাবার পরে ওই কাজের বিল করা হলেও এখন পর্যন্ত টাকা দেওয়া হয়নি। বকেয়া টাকার পরিমাণ সবমিলিয়ে প্রায় সাড় তিন কোটি টাকা।

অন্যদিকে সরকারি ভাবে বিভিন্ন দপ্তর, আবাসন ছাড়াও একাধিক জায়গায় জল সরবরাহ করা হয়। যে কারণে সারা বছর ধরেই চলে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ। জেলাজুড়ে এই রকম ১৩০টি প্রজেক্টের কাজের বিল দেওয়া হচ্ছে না। এদিন সংগঠনের পক্ষে শিবু দে বলেন, দপ্তর থেকে কাজের জন্য চাপ দেওয়া হলেও কাজের বিলের টাকা দেওয়া হচ্ছে না। ফলে সমস্ত ঠিকাদার ক্ষিপ্ত। ঘরের টাকা খাটিয়ে তারা আর কাজ করতে চাইছেন না। গত দুই বছরে রক্ষণাবেক্ষণের কাজের বিলের পরিমাণ প্রায় ১৫ কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বহু বার কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও সঠিক উত্তর পাওয়া যায়নি। এ কারণে বিশেষ কিছু জায়গা বাদে বাকি জায়গাগুলিতে চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ বন্ধ রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এই বিষয়ে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সোমনাথ চৌধুরী জানান, ঠিকাদারদের আন্দোলনের বিষয়টি তার জানা নেই। তবে বকেয়া নিয়ে তিনি ঠিকাদারদের সাথে কথা বলবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *