আমাদের ভারত, ২৬ আগস্ট: আফগানিস্তান দখলের পর থেকে মুখে শান্তির কথা বললেও এখনো পর্যন্ত তালিবাদের কার্যকলাপ তাদের অতীত অভিজ্ঞতাকে স্মরন করিয়ে দিচ্ছে। এখন নৈরাজ্যের পরিস্থিতি গোটা আফগানিস্তান জুড়ে। তারই মাঝে ৩১ আগস্টের পর মার্কিন বাহিনীকে আর সেখানে থাকতে দেবে না বলে দিয়েছে তালিবান।
ভারত, আমেরিকা সহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাস থেকে নিজেরদের দেশের নাগরিকদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে কাবুলের হামাদা কারজাই বিমান বন্দর থেকে। তালিবান শাসন থেকে বাঁচতে দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টায় বিমানবন্দরে ভিড় করেছেন লাখ লাখ আফগান নাগরিকও।
তালিবান আগেই ঘোষণা করেছিল যে তারা কোনও দূতাবাস কর্মীদের ওপর আক্রমণ করবে না। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নিজেদেরকে আফগান সরকার হিসাবে জায়গা করে নেওয়ার জন্যই সকলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছে বারবার। তালিবানের এই আশ্বাসে বিশ্বাস করতে রাজি নয় কোনও রাষ্ট্রই, এমনকি সেদেশের নাগরিকরাও। তাই আফগানিস্তান ছেড়ে চলে যাওয়ার হিড়িক পড়েছে বিমানবন্দরে। আর তাদের আটকাতেই বিমানবন্দর মুখি রাস্তাগুলোকে বন্ধ করে রেখেছে তালিবান।
আফগান নাগরিকদে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়াতে নারাজ তালিবান, তবু বিমানবন্দরের এই ভিড় প্রমাণ করছে তালিবানদের সন্ত্রাস কীভাবে প্রতিটি নাগরিকের মনে গেঁথে আছে। প্রাণে বাঁচার জন্য বিমানে চড়ার সময়ে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু এবং বিমানে জায়গা না পেয়ে বিমানের চাকায় লুকিয়ে দেশ ছাড়তে গিয়ে মৃত্যুর দৃশ্যও মিলেছে। ছোট্ট কোলের শিশুকে বাঁচাতে বিমানবন্দরে কাঁটা তারের বেড়া পার করে মার্কিন সেনার হাতে শিশুকে তুলে দেওয়ার নির্মম ছবিও দেখেছে বিশ্ব।

দখলের পর পরই তালিবানের জারি করা নানা ফতোয়া, নারীদের উপর নিষেধাজ্ঞা মানুষের মনের ভয় আরও তীব্র করছে। মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০০১ সালের আগে তালিবান শাসন ও তার কট্টোর দানবীয় আইনের কথা। একের পর এক প্রদেশ দখলের সময়কালে প্রকাশ্যে সাধারণ মানুষকে নৃসংশ ভাবে হত্যা করা, রাস্তায় পড়ে থাকা ছিন্নভিন্ন মৃতদেহের কথা সকলকে সন্ত্রস্ত করে রেখেছে।

সূত্রে জানা গেছে, প্রথমেই শিক্ষা ক্ষেত্রে তালিবানি নিয়ম জারি করা হয়েছে। স্কুলে ছেলে মেয়ে একসাথে পড়া শোনা করা যাবে না, পুরুষ শিক্ষার্থীর জন্য পুরুষ শিক্ষক এবং মহিলাদের জন্য মহিলা কিংবা বৃদ্ধ শিক্ষক থাকতে হবে। এও শোনা গেছে, দেশের মহিলাদের বাইরে কাজে যাওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই তাই কর্মরত মহিলাদের বাড়ির বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তালিবান। তবে সূত্রের খবর, তালিবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, এই নিষেদ্ধাজ্ঞা অতি অল্প সময়ের জন্য। তালিবান বাহিনী জানে না মহিলাদের সঙ্গে কীভাবে ব্যবহার করতে হয় এবং দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কারনে তারা এই নিয়ম নিয়ে এসেছেন। মহিলাদের নিরাপত্তার ব্যাপার যতদিন না নিশ্চিত হয় ততদিন পর্যন্ত মহিলাদের বাড়িতে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সব কিছু স্বাভাবিক হলে এই নিয়মও থাকবে না বলে দাবি করেছেন তিনি। কিন্তু তাদের এই দাবির কোনও বিশ্বাসযোগ্যতা নেই বলেই মনে করা হচ্ছে।

