জয় লাহা, দুর্গাপুর, ২৩ আগস্ট: ফের জলের তোড়ে ভাঙ্গল অস্থায়ী বাঁধ। আর তার জেরে আবারও সেচের জল সঙ্কটে গলসির প্রায় হাজার একর জমি। আর তাতেই মাথায় হাত পড়েছে গলসি-১ নং ব্লকের খাঁ পাড়া, খামারগ্রাম, কোঁদাইপুরের চাষিরা। নতুন করে পাকা বাঁধ তৈরীর দাবিতে সরব চাষিরা।
কাফরেন বাঁধ। গলসি-১ নং ব্লকের খাঁ পাড়া, খামার গ্রাম, কোঁদাইপুর মৌজায় এই বাঁধের সেচের জলে নির্ভরশীল প্রায় ১ হাজার একর চাষের জমি। বছরে দু’বার ধান চাষ হয় ওই দুই মৌজার জমিতে। মানকর পিভিসি সেচ ক্যানেল থেকে শাখা বেরিয়ে সোজা চলে গিয়েছে খাঁ পাড়া, খামারগ্রাম, কোঁদাইপুর এলাকায়। সেখানেই রয়েছে কাফরেন বাঁধ। প্রায় প্রতিবছরই বল্লি ও বালি-মাটির বস্তা দিয়ে বাঁধানো হয় বাঁধটি। চলতি বছর সপ্তাহখানেক আগে মাটির বস্তা দিয়ে গ্রামবাসীরা বাঁধটি মেরামত করে। কিন্তু, গত দু’দিনের ভারি বৃষ্টিতে আবারও জলের তোড়ে সেই বাঁধ ভেঙ্গে যায়। চাষিদের অভিযোগ, “জলের চাপ খুবই বেশি। তার ফলে অস্থায়ীভাবে মাটির বস্তা দিয়ে বাঁধানোয় বাঁধ টেকসই হয়নি। গত বছর খারিফ মরশুমে দুবার বাঁধটি বাঁধানো হয়েছিল। কিন্তু জলের তোড়ে ভেঙ্গে যায়। চলতি বছর গ্রামের সকলে উদ্যোগ নিয়ে মাটি দিয়ে বাঁধিয়েছিলাম। কিন্তু দুিন আগে বৃষ্টির জলের তোড়ে ওই বাঁধ ভেঙ্গে চলে যায়। ফলে আবারও জল সঙ্কটের আশঙ্কায় রয়েছি। তাই গুরুত্বপূর্ণ ওই বাঁধটি পাকাপাকি বাঁধানোর দাবি জানাচ্ছি।”

চাষিরা জানান, “ধার দেনা করে চাষ করেছি। প্রায় ১০ হাজার টাকা বিঘাতে খরচ হয়েছে। এভাবে জল সঙ্কটের ফলে ফলন ভালো হবে না। ফলে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছি।”
জানা গেছে, দীর্ঘদিনের পুরোনো বাঁধ। প্রতিবছর কেন অস্থায়ীভাবে ওই বাঁধ বাঁধানো হয়। রাজ্য ও কেন্দ্র উভয় সরকার যখন কৃষির ওপর জোর দিয়েছে, জল সংরক্ষণে তৎপর, তখন কেন ওইরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁধ পাকা বাঁধানো হয়নি?
রাজ্য সেচ দফতরের দুর্গাপুর ডিভিশনের আধিকারিক গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিষয়টি শুনেছি। এবার একটু শাল বল্লি ও উন্নতমানের পলিব্যাগ দিয়ে মজবুত করে বাঁধানো হবে। তার প্রক্রিয়া চলছে। খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।”

