শব্দ নিয়ে ভাবনা ১! দাবদাহ

আজ ১ মে থেকে প্রতিদিন ছোট্ট কোনও কথা/বাক্য নিয়ে একটা একটা বিষয় চালু করতে চাই। অনেক কথার উৎস/প্রকৃত অর্থ আমরা অনেকে জানি না।
স্বল্প জ্ঞানে খেলার ছলে এই উদ্যোগ, সবার আশীর্বাদ প্রার্থনীয়। ভুল করলে শুধরে দেওয়ার আর বিরক্ত বোধ করলে অনুগ্রহ করে সতর্ক করে দেওয়ার অনুরোধ।
অশোক সেনগুপ্ত। 🙏🏽

আমাদের ভারত, ১ মে:
আজেবাজে অজস্র লিখি। কিন্তু সতর্ক থাকার চেষ্টা করি শব্দপ্রয়োগে। বানান নিয়ে বিভ্রান্তি বা ধন্দ থাকেই। অনেক ক্ষেত্রে পরিচিত বিশেষজ্ঞদের মতামত চাই। প্রচারমাধ্যমে সামগ্রিকভাবে অতি সম্প্রতি যে বাংলা শব্দটা বহুল ব্যবহৃত হয়েছে, সেটি হল দাবদাহ। কথাটার আভিধানিক অর্থ ‘জঙ্গলে আগুনের তাপ’। তাহলে আমরা যে গরমে কাটাচ্ছি, সেটাকে দাবদাহ বলা কতটা উচিত?

বছর ছয় আগে পর্যন্ত আনন্দবাজার পত্রিকার রিপোর্টারদের কপি মূলত দেখতেন রতনমনি জানা। যথেষ্ঠ যত্নবান ছিলেন ব্যকরণ-বানান নিয়ে তিনি এক্ষেত্রে দাবদাহ লেখা একেবারেই পছন্দ করতেন না।

এই গরমকে দাবদাহ লেখা উচিত? নিছক শুদ্ধতার যুক্তি খুঁজতে আমি চার জন বরিষ্ঠ ব্যক্তির কাছে এ ব্যাপারে মতামত চাইলাম। প্রাক্তন উপাচার্য ডঃ পবিত্র সরকারের মত, “না। দাব মানে জঙ্গল। তবে প্রচলনে অনেক শব্দের মূল অর্থ থাকে না।“ আর এক প্রাক্তন উপাচার্য ডঃ অচিন্ত্য বিশ্বাসের মত, “এ ধরনের ব্যবহারকে বলে রূঢ়ী প্রয়োগ। দারুণ গরম যেন বনের আগুনের মত। ব্যবহার করা যায়।“

এঁরা দুজনেই সাহিত্যের শ্রদ্ধেয় ও বরিষ্ঠ অধ্যাপক। এবার বাংলা চর্চা করেন এমন দু’জনের মতামত। আনন্দবাজার পত্রিকার প্রাক্তন অ্যাসিস্টেন্ট এডিটর রথীন্দ্রমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত, “ব্যবহার করা যায় না। বহুল ব্যবহারে অনেক শব্দ ভিন্ন অর্থে চালু হয়ে যায়। তখন দিব্য তার ব্যবহার চলে। যেমন, সোচ্চার শব্দের আভিধানিক অর্থ দেখে নিও‌ (সশব্দে মলত্যাগ), আর এখন কী অর্থে ব্যবহার হয়?“ ওই দৈনিকের প্রাক্তন উপ বার্তা সম্পাদক শম্ভু সেনের মতে, “আমি অন্তত এটা ব্যবহারের পক্ষপাতী নই। দাবদাহ বললে জঙ্গলের আগুনই বোঝায়। এই সময়ের গরমকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা কর। তাপদাহ বলতে পারিস। just আমার suggestion.“

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *