আমাদের ভারত, ২ মে:
‘চাপান উতোর না চাপান উতর’
সংসদ বাংলা অভিধান বলছে চাপান মানে, “কবিগান তরজা প্রভৃতিতে এক পক্ষ কর্তৃক অপর পক্ষকে সমাধানের জন্য প্রদত্ত সমস্যা।“ উতোর, উতর দুটোই শুদ্ধ।
অন্যত্র পাচ্ছি, এক কবি প্রথমে অপর দলের কবিকে উদ্দেশ করে প্রশ্নাকারে কোনও পদ্য ছুঁড়ে দিতেন। অপর কবি সে অনুযায়ী তাৎক্ষণিক একটি ছন্দ বানিয়ে পাল্টা জবাব দিতেন। প্রথম দলের কথাকে বলা হতো ‘চাপান’, আর দ্বিতীয় দলের কথাকে বলা হতো ‘উতোর’। এই প্রসঙ্গে বলি, কবিয়াল-এর অর্থ দলপতি। সরকারও বলা হয়। আর দোহার কথাটার অর্থ কবিয়ালের সঙ্গী।

আনন্দবাজার পত্রিকার প্রাক্তন উপ বার্তা সম্পাদক শম্ভু সেনের প্রতিক্রিয়া’ খুব ভালো উদ্যোগ অশোক। চাপান আর উতোর দু’টো আলাদা শব্দ নয়। শব্দটা হল – চাপানউতোর। এটা কেউ কেউ চাপানউতর বলতে পারে, কিন্তু সেটা উচ্চারণের তফাতের জন্য। অঞ্চল ভিত্তিতে উচ্চারণ তো আলাদা হয়ে যায়। এখন সংসদ যা বলছে আর অন্যত্র যা বলা হচ্ছে, তাদের মধ্যে কোনো তফাত নেই। ‘চাপানউতোর’ শব্দটা যে কবিগান বা তরজার আসর থেকে এসেছে তা দু’ পক্ষই বলছে। এবং এটা প্রশ্নই হোক বা সমস্যা হোক, এক পক্ষ আর-এক পক্ষের দিকে ছুড়ে দিচ্ছে বা চাপিয়ে দিচ্ছে। ভেবে দেখ – চাপিয়ে দিচ্ছে, যা থেকে এসেছে চাপান। এ বার প্রতিপক্ষের দায়িত্ব হল সেই চাপানের উত্তর দেওয়া। সেই ‘উত্তর’ শব্দ থেকে এসেছে উতোর। দুয়ে মিলে হল চাপানউতোর। এটা হল আভিধানিক অর্থ। এখন আমরা যে কোনো তর্ক- বিতর্ককে চাপানউতোর বলে থাকি।

