স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ৫ মে:
“যারা বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন তাঁরা যেনও আর কোনওদিন কোনও সুযোগ সুবিধা নিতে আসবেন না “এমনই নিদান দিয়েছেন রায়গঞ্জ পুরসভার ২৭ নম্বর ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর প্রসেনজিৎ সরকার ও কল্পিতা মজুমদাররা। এমনকি এদিন সকালেই প্রসেনজিৎ সরকারের বাড়িতে আসা ওয়ার্ডের এক দুঃস্থ বাসিন্দা সাহায্য চাইতে এলে তাঁকে বিজেপি পার্টি অফিসে যাওয়ার পরামর্শ দেন বলে অভিযোগ। এ বিষয়টি নিয়ে কটুক্তি করতেও ছাড়েননি বিজেপির জেলা সভাপতি বাসুদেব সরকার।
তবে এ বিষয়ে রায়গঞ্জ পুরসভার উপ পুরপিতা বলেন, ক্ষোভের থেকে এই পোষ্ট গুলো করেছেন কাউন্সিলররা। তারা সকলেরই জনপ্রতিনিধি সবার জন্যই তাদের কাজ করার কথা বলা হয়েছে।
রায়গঞ্জ পুরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর প্রসেনজিৎ সরকারের এই আচরণে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
এই ধরনের নিদান দেওয়ার কথাও স্বীকার করে নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর প্রসেনজিৎ সরকার বলেন, সারাবছর এলাকার মানুষের পরিষেবা দিয়ে এসেছি। সরকারি সমস্ত সুবিধা দেওয়া হয়েছে অথচ তারা ভোট দিয়ে রায়গঞ্জ বিধানসভায় বিজেপিকে জিতিয়েছে। আর সেজন্যই সেইসব মানুষদের কাছে আবেদন আর যেন তারা কোনও সুযোগ সুবিধা নিতে না আসেন। যদিও একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে ওয়ার্ডের সব মানুষই তার কাছে সমান। কিন্তু তার এই নিদানে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে রায়গঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির কাছে ২০৭৪৮ ভোটে পরাজিত হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী কানাইয়ালাল আগরওয়াল। তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত রায়গঞ্জ পুরসভার ২৭ টি ওয়ার্ডেই রয়েছে তৃণমূলের কাউন্সিলর। অথচ ভোট গণনার পরে সেই রায়গঞ্জ পুরসভা এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী বিজেপি প্রার্থীর চাইতে ৯৯৪৫ ভোটে পিছিয়ে ছিলেন। রায়গঞ্জ পুরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডেও তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী কানাইয়ালাল আগরওয়াল ২৭৫ ভোটে বিজেপি প্রার্থীর চেয়ে পিছিয়ে ছিলেন। এরপরই ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর প্রসেনজিৎ সরকার তাঁর নিজের ফেসবুকে পোস্ট করেন “রায়গঞ্জে যারা বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন তারা বিপদে পড়লে কোনও তৃণমূল কর্মীদের কাছে আসবেন না। যদি আপনাদের মনুষ্যত্ব থাকে।” এমনকি কাউন্সিলর নিজের বাড়ির সামনে এই মর্মে পোস্টারও সেঁটেছিলেন। পরে যদিও তিনি সেই পোস্টার খুলে ফেলে দেন। পুরসভার একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর প্রসেনজিৎ সরকারের এই ধরনের আচরণ নিয়ে চরম বিতর্ক দানা বেঁধেছে রায়গঞ্জ শহরে।
মঞ্জু রায় নামে ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের এক দুঃস্থ বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, বুধবার সকালে কাউন্সিলর প্রসেনজিৎ সরকারের বাড়িতে সাহায্য চাইতে আসলে তাঁকে গীতাঞ্জলি হলের পাশে বিজেপি কার্যালয়ে সাহায্য চাইতে যাওয়ার কথা বলা হয়। তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী হেরে যাওয়ার পর রায়গঞ্জ পুরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের এই ধরনের আচরণ কাউন্সিলর প্রসেনজিৎ সরকার নিজেই স্বীকার করে বলেন, সারা বছর এলাকার মানুষদের পরিষেবা দিয়ে এসেছি। বিপদে আপদে সর্বদা পাশে ছিলাম। সরকারি সুবিধা ছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে সাহায্য সহযোগিতা করা হয়েছে। অথচ এলাকার মানুষ হিন্দুত্বের দোহাই দিয়ে বিজেপিকে ভোট দিয়ে জিতিয়েছে। তাই একজন তৃণমূল কংগ্রেসের সৈনিক হিসেবে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি এই মত ব্যক্ত করেছেন। এতে তিনি কোনও দোষের কিছু দেখছেন না।

