আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, বীরভূম, ১১ ফেব্রুয়ারি: রাতে বাড়ি বাড়ি হুমকি, ভাঙ্গচুর। রাত পোহাতেই বিরোধীরা দল বেঁধে মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করতে শুরু করলেন। কেউ কেউ আবার তৃণমূলে যোগদান করলেন। যদিও বিজেপির অভিযোগ, পঞ্চায়েতের মতোই সন্ত্রাস করে প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হয়েছে।
বীরভূমের রামপুরহাট পুরসভায় ১৮ টি ওয়ার্ডের মধ্যে সব ওয়ার্ডেই মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছিলন তৃণমূল-বিজেপি। সিপিএম জমা দিয়েছিল ৮ টি ওয়ার্ডে। ফরওয়ার্ড ব্লক ৪ টি ওয়ার্ডে এবং ৫ টি ওয়ার্ডে কংগ্রেস মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছিল। বৃহস্পতিবার রাতে রামপুরহাট পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছিলেন দীনেশ মণ্ডল। তার পাশেই ৯ নম্বর ওয়ার্ডে থাকেন দাদা তাপস মণ্ডল। দীনেশবাবু তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের ভয়ে মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার পর থেকেই শহর ছাড়া ছিলেন। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে একটি চার চাকা গাড়িতে চড়ে কয়েকজন দুষ্কৃতী প্রথমে দীনেশের বাড়িতে হামলা চালায়। এরপর দাদা তাপস মণ্ডলের বাড়ি ভাঙ্গচুর করে।
দীনেশের স্ত্রী ইতি মণ্ডল বলেন, “আতঙ্কে আমরা সন্ধে থেকেই বাড়ির দরজা বন্ধ রাখি। রাত সাড়ে ১০ টা থেকে ১১ টার মধ্যে কয়েকজন দুষ্কৃতী প্রথমেই অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। এরপর পাথর, ইট দিয়ে বাড়ির সমস্ত জানালার কাছ ভেঙ্গে দেয়। গেটে লাথি মারে ভেঙ্গে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করে। কিন্তু পাড়ার লোকজন বেরিয়ে আসায় দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়। যাওয়ার আগে শাসিয়ে যায় মনোনয়ন পত্র তোলা না হলে গুলি করে মেরে দেওয়া হবে। আমার ভাগ্নি পুলিশকে ফোন করেছিল। কিন্তু পুলিশ আসেনি”।
এই ঘটনার পরেই বিকেলের দিকে মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নেন দীনেশ মণ্ডল। ধীরে ধীরে ৬, ৯, ১১, ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি প্রার্থীরা মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নেন। ফলে ৪ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় জয়লাভ করে তৃণমূল। এভাবে রামপুরহাট পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নিশ্চিন্তপুরে দুবারের প্রাক্তন কাউন্সিলার আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে বেশ কিছু দুষ্কৃতী বাড়ির সামনে জমায়েত হয়ে ভাঙ্গচুর করে।
ছেলে ফেরি শেখ বলেন, “দুষ্কৃতীরা মুখে কাপড় বেঁধে ছিল। দরজা ভাঙ্গার চেষ্টা করে। বাড়ির ভিতর ঢুকতে না পেরে জানালার কাঁচ, দুটি বাইক ও জলের পাইপ লাইন ভেঙ্গে দেয়। দুই দফায় ভাঙ্গচুর চালায়। থানায় ফোন করা হলে পুলিশ উল্টে আমাদের থানায় ডেকে পাঠায়। আমাদের বিরুদ্ধে কে বা করা প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেছে। তাই সকালে আমি বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে এসেছি”।
আনোয়ার হোসেন বলেন, “এতদিন আমি ওদের কাছে ভালো ছিলাম। নতুন করে নির্দল প্রার্থী হওয়ায় ওদের চক্ষুশূল হয়েছে। ওদের ভয়ে ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। অথচ পুলিশ আমাদের বিরুদ্ধেই মিথ্যা মামলা নিয়েছে। মানুষ এর জবাব দেবে”
অন্যদিকে সিউড়িতে ২১ টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৪ টি ওয়ার্ডে এখনও পর্যন্ত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় জয়লাভ করেছে তৃণমূল। ফলে বোলপুর এবং সাঁইথিয়ার পর এবার সিউড়ি পুরসভাাও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় দখল করল তৃণমূল।
বিজেপির জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা বলেন, “পঞ্চায়েতের মতোই সন্ত্রাস চালাচ্ছে তৃণমূল। শাসক দলের দুষ্কৃতীরা বাড়ি ভাঙ্গচুর করছে। খুনের হুমকি দিয়ে মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করছে। আমরা সমস্ত ওয়ার্ডেই মনোনয়ন পত্র জমা করেছিলাম। কিন্তু শাসক দলের জেলা সভাপতি আগেই হুমকি দিয়ে রেখেছিলেন। তারই ফল মিলল। রাতে প্রতিটি থানা থাকছে সমাজবিরোধীদের দখলে। মানুষ ভয়ে অভিযোগ জানাতে থানায় যেতে পারছে না”।
বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিকাশ রায় চৌধুরী বলেন, “বিরোধীরা উন্নয়ন দেখে মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। ভয় দেখানোর কথা একেবারে মিথ্যা”।

