এবার মোদীর রাজ্যে ৩২টি জেলায় সরাসরি বার্তা তৃণমূল সুপ্রিমোর

রাজেন রায়, কলকাতা, ১৮ জুলাই: ভোটের আগে টানা কয়েক মাস পশ্চিমবঙ্গে ক্রমাগত যাত্রা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। লক্ষ্য ছিল, বঙ্গ দখল। কিন্তু ভোটের ফলাফলে পরিষ্কার নিজের সাম্রাজ্যে কোনও আঁচ লাগতে দেননি তৃণমূল সুপ্রিমো। সেই কারণে এবার ২১ জুলাই পাল্টা মোদীর রাজ্যে সরাসরি গুজরাতে পৌঁছাতে চলেছে তৃণমূল সুপ্রিমোর বার্তা।

আগেই জানা গিয়েছিল ২১-এ জুলাইয়ে দেওয়া মমতার ভাষণ শোনানো হবে বেশ কয়েকটি রাজ্যে। সেই রাজ্যের তালিকায় যুক্ত হয়েছে গুজরাতের নাম। সূত্রের খবর, গুজরাটের ৩২টি জেলায় মোট ৫০ লটি জায়ান্ট স্ক্রিন লাগিয়ে মমতার ভাষণ শোনানো হবে। একুশের ভোটে বাংলায় বিজেপিকে রুখে দেওয়ার পরেই তৃণমূলের তরফে অনেকে বলতে শুরু করেছিলেন, এই ভোটে জয়ের পর মোদীর বিরোধী মুখ হিসেবে মমতাই এখন সবথেকে বড় নাম। গুজরাটের নিজের আওয়াজ পৌঁছে দিয়ে সেই কাজটাই করতে চলেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

শুধু গুজরাত নয়, খোদ দিল্লিতেও চলবে মমতার ভাষণ। উত্তরপ্রদেশের একাধিক জেলাতেও মমতার ভাষণ শোনান হবে। ২১-এর ভাষণ শোনা যাবে তামিলনাড়ু, পঞ্জাব এবং ঝাড়খণ্ডেও। ত্রিপুরা এবং অসমেও মমতার বক্তব্য শোনানো হবে বলে জানা গিয়েছে। ভিন রাজ্যে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে এই অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি। পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, রাজধানীর কোনও একটি স্থানে জায়ান্ট স্ক্রিন লাগানো হবে। সেখানে বসেই নেত্রীর বক্তৃতা শুনবেন তৃণমূল সাংসদরা। এছাড়া পাঞ্জাবেও একই ভাবে জায়ান্ট স্ক্রিনের ব্যবস্থা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তৃতা শোনানোর ব্যবস্থা হচ্ছে। উত্তরপ্রদেশ নিয়েও একই ভাবনা রয়েছে। ওই দিন থেকেই যাতে মমতার গুরুত্ব বুঝতে পারেন ভারতবাসী, তার জন্য সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

প্রশাসনের ভাবমূর্তি বজায় রাখতে করোনার কারণে ২১ জুলাই সেভাবে পালন করা যাবে না। এই অবস্থায় দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ভার্চুয়াল মাধ্যমে ব্লকে ব্লকে, পাড়ায় পাড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে ২১ জুলাইকে। জায়ান্ট স্ক্রিনে সোশ্যাল মিডিয়া তথা ইন্টারনেটের সাহায্যে তৃণমূল সমর্থকদের কাছে পৌঁছে যাবে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *