আমাদের ভারত, জলপাইগুড়ি, ৩ জানুয়ারি: কলকাতা সহ অন্যান্য জেলার পর এবার “বাংলায় বিকল্প রাজনীতি”র পোস্টার পড়ল জলপাইগুড়ি শহরে। শহরের নয়াবস্তি, থানা মোড়, কদমতলা সহ একাধিক জনবহুল জায়গায় এই পোস্টার টাঙানো হয়েছে। কে বা কারা এই পোস্টার লাগিয়েছে তা নিয়ে যেমন ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে শাসক ও বিরোধীদের মধ্যে। ঠিক একই ভাবে এই পোস্টার এখন আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু হয়ে উঠেছে শহরের একাধিক চায়ের দোকানে ও আড্ডাস্থলে।
মঙ্গলবার সকালে জলপাইগুড়ি শহরের নয়াবস্তি এলাকায় তৃণমূল পার্টি অফিসের সামনে “বাংলায় বিকল্প রাজনীতি” লেখা, পোস্টার প্রথমে চোখে পড়ে পথ চলতি মানুষের। এরপর একে একে থানামোড়, স্টেশন রোড, দিনবাজার এলাকা সহ শহরের প্রায় একাধিক জায়গায় দেখা যায় এই পোস্টার। শহরবাসীর মুখে মুখে এই পোস্টারের খবর ছড়িয়ে পড়েছে। সামনেই লোকসভা নির্বাচন। আর তার আগে শহরে এই ধরণের পোস্টার পড়ায় স্বাভাবিকভাবে শাসক ও বিরোধী দলগুলির মধ্যে চর্চা শুরু হয়েছে।

জলপাইগুড়ি শহর ব্লক কংগ্রেসের সভাপতি অম্লান মুন্সি বলেন, এই পোস্টার কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আগেই পড়েছে। এটা তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের বহি:প্রকাশ। আসলে ওই দলে যাঁরা এখন গুরুত্ব পাচ্ছেন না, তারাই অন্যান্য দলের বিক্ষুব্ধদের নিয়ে বিকল্প রাজনৈতিক দল গঠন করা যায় কিনা সেটা দেখার জন্যই এই ধরনের পোস্টার লাগিয়েছেন বলেই মনে করছেন তিনি।”
এদিকে অনেকটা একই বক্তব্য জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক শ্যাম প্রসাদের। তিনি বলেন, “যারা তৃণমূল বা কংগ্রেসে জায়গা পাচ্ছেন না, অন্যদিকে বিজেপিতে আসার রাস্তাও বন্ধ, তারাই এই ধরণের পোস্টার লাগাচ্ছেন।
যদিও বোরোধী দুই দলের দাবিকে উড়িয়ে দিয়েছেন টাউন ব্লক তৃণমূল সভাপতি তপন ব্যানার্জি। তিনি বলেন, “কিছু দিন আগে কংগ্রেস নেতা কৌস্তভ বাগচী এই বিকল্প রাজনীতির কথা অন ক্যামেরায় বলেছেন। তাহলে ধরেই নেওয়া যায় কংগ্রেসের হতাশাগ্রস্থ নেতা এবং যাদের সাথে বিজেপির যোগাযোগ আছে তারাই এই পোস্টার লাগাচ্ছে। তৃণমূলের মধ্যে কোন অন্ত:দ্বন্দ্ব নেই।”

