স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদীয়া, ২১ জুলাই:
রানাঘাটের প্রাক্তন কাউন্সিলরের পর এবার নকল সোনার মুদ্রা কিনে প্রতারিত হলেন নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জের মাজদিয়া আদিত্যপুরের এক ব্যক্তি, তিনি কৃষ্ণগঞ্জ ব্লক অফিসের ম্যারেজ রেজিস্ট্রার। প্রাচীন স্বর্ণমুদ্রা বলে পিতলের মুদ্রা দিয়ে তাঁর কাছ থেকে দুই লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল। প্রলয় কুমার রায় নামে ম্যারেজ রেজিস্ট্রার জেলা পুলিশের কাছে ঘটনার লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। ঘটনার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করছে পুলিশ।
রানাঘাটের প্রাক্তন কাউন্সিল ১২ লক্ষ টাকার প্রতারণার শিকার হয়েছিলেন। এবার প্রতারিত হলেন কৃষ্ণগঞ্জ ব্লক অফিসের ম্যারেজ রেজিস্ট্রার। তাকে নকল মুদ্রা দিয়ে ২ লক্ষ টাকা প্রতারণা করা হয়েছে। তিনি জানান, দিন কয়েক আগে অচেনা নম্বর থেকে এক ব্যক্তি ফোন করে গৌর দাস বলে পরিচয় দেয়। এরপর সে জানায় আমি আপনার বাড়িতে রাজমিস্ত্রির কাজ করেছি। সে প্রলয়বাবু’কে জানায় যে তার কাছে স্বর্ণমুদ্রা আছে। তার খুব টাকার প্রয়োজন সস্তায় সেগুলো বেচতে চায়। লোভনীয় প্রস্তাব পেয়ে প্রলয়বাবু রাজি হয়ে যান। এরপর তাদের ঠিকানা বীরভূমের লাভপুর এলাকায় গিয়ে তাদের সঙ্গে দেখা করতে বলেন ওই ব্যক্তি। কিন্তু প্রলয়বাবু তাতে রাজি না হওয়ায় ওই ব্যক্তি আদিত্যপুরের বাড়িতে চলে আসেন। প্রথমে বিশ্বাস অর্জনের জন্য একটা স্বর্ণমুদ্রা থেকে কিছুটা অংশ কেটে দেন। প্রলয়বাবু সোনার দোকানে পরীক্ষা করে দেখেন এটা অরজিনাল সোনা। সেই লোভেই তিনি এই সোনা কেনেন। তিনি আরো বলেন আমার পুরো বিশ্বাস হয়ে যায় এরপর যখন ওরা আরও ২১০টি মুদ্রা বেচতে চায় আমি অতি বিশ্বাসে কোনওরকম যাচাই না করেই দু’লক্ষ টাকা দিয়ে সেগুলো কিনে নিই। এরপর সমস্ত মুদ্রা অত্যন্ত গোপনে ঘরের মধ্যে লুকিয়ে রাখি।

কিন্তু সংবাদপত্রে রানাঘাট ও ব্যারাকপুরে একই রকম স্বর্ণমুদ্রার খবর প্রকাশিত হতেই আমি যাচাই করবার জন্যই ২১০টি মুদ্রা সোনার দোকানে নিয়ে যাই। কিন্তু সোনার দোকানদার জানায় এগুলো সোনা নয় সবগুলোই পিতলের। আমি ভেঙে পড়ি এবং বিষয়টি নদীয়ার এসপি’র কাছে লিখিত ভাবে জানাই। আমি যাতে ওই নকল মুদ্রা বিক্রেতার কাছ থেকে আমার অর্থ ফেরত পাই এটার জন্য আবেদন করি। তবে দ্বিগুণ লাভের আশায় আমার এই সর্বনাশ এটা মেনে নিতে দ্বিধা নেই। কান পাতলে এটাও শোনা যাচ্ছে অতি লোভের জন্যই তিনি এই কাজ করেছেন যার ফল পেয়েছেন তিনি হাতেনাতে।

