আমাদের ভারত, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, ৯ ডিসেম্বর:
গঙ্গাসাগর মেলার সময় ঘন কুয়াশার জন্য দৃশ্যমানতা অনেকটাই কমে যায়। ফলে মুড়িগঙ্গা নদী দিয়ে যাত্রী পারাপার করতে অনেক সময়ই সমস্যা দেখা দেয়। দুর্ঘটনাও ঘটে কখনও কখনও। ঘন কুয়াশার জেরে ভেসেল দিকভ্রস্টও হয়ে যায় মাঝে মধ্যেই। এই সমস্যা মেটাতে এবার অস্ট্রেলিয়া থেকে আনা হবে বিশেষ আলো। যে আলোতে ঘন কুয়াশার সময়ও দৃশ্যমানতা থাকবে। এবারের সাগর মেলায় কুয়াশার সময়ও মেলার যাত্রী পরিষেবা চালু রাখতে বিশেষ জোর দিচ্ছে জেলা প্রশাসন।শুক্রবার গঙ্গাসাগরের মেলা অফিসে একটি বিশেষ প্রস্তুতি বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে পৌরহিত্য করেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক সুমিত গুপ্তা। উপস্থিত ছিলেন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিম হাজরা, জেলা সভাধিপতি নীলিমা মিস্ত্রি, সুন্দরবনের পুলিশ সুপার কোটেশ্বর রাও, গঙ্গাসাগর-বকখালি উন্নয়ন পর্যদের চেয়ারম্যান শ্রীমন্ত মালি সহ মেলার পরিকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত সব বিভাগের আধিকারিকরা।
দেশের বিভিন্ন বিমান বন্দরে এই আলো ব্যবহার করা হয়। ৬০০টি অ্যান্টি ফগ লাইট লাগানো হবে মেলার বিভিন্ন পয়েন্টে ও নদীতে। এবারের মেলায় কুয়াশা ও কাকদ্বীপের মুড়িগঙ্গা নদীর পলি কাটার ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। তৈরী করা হচ্ছে বিশেষ চ্যানেল। যে চ্যানেল দিয়ে ভাটার সময়ও ভেসেল পরিষেবা চালু রাখা যাবে বলে প্রশাসনের অনুমান। এছাড়া এবারেও বাবুঘাট থেকে মেলার মাঠ পর্যন্ত একাধিক বাফারজোন গড়ে তোলা হচ্ছে। পুণ্যার্থীদের ভিড় বাড়লে এই বাফারজোনে বিশ্রামের ব্যবস্থা করা হবে পুণ্যার্থীদের। এই বাফারজোনগুলিতে পানীয় জল, শৌচালয়, যাত্রী শেডের ব্যবস্থা থাকবে। জোরকদমে চলছে মেলার প্রস্তুতি। ইতিমধ্যে পরিকাঠামোর কাজ শুরু হয়ে গেছে। ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহের মধ্যে সব কাজ শেষ হবে বলে দাবি প্রশাসনের। এবারের মেলায় ১৩ থেকে ১৫ হাজার পুলিশ কর্মী ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত থাকবেন। ড্রোনের ব্যবস্থা থাকবে। থাকছে মেগা কন্ট্রোলরুমও।
সূত্রের খবর, চলতি মাসের শেষে বা জানু্যারির শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি মেলার প্রস্তুতি সরেজমিনে দেখতে আসবেন বলে জানা গিয়েছে।

