Diwali, UNESCO, এবার ইউনেস্কোর হেরিটেজ তালিকায় উজ্জ্বল স্থান করে নিল আলোর উৎসব দীপাবলি

আমাদের ভারত, ১০ ডিসেম্বর: ইউনেস্কোর ইনট্যানজিবেল কালচারাল হেরিটেজ তালিকায় নতুন সংযোজন হলো আলোর উৎসব দীপাবলি। কলকাতার দুর্গাপূজার পর দীপাবলিও এই তালিকায় স্থান পেল। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে আলোর উৎসব দীপাবলি সকলের।

চিরন্তন শান্তি, অশুভকে পরাজিত করে শুভর জয় কামনায় হয় এই উৎসব। বাংলায় কালীপুজোর পরের দিন বাড়ি বাড়িতে জ্বলে ওঠে প্রদীপ এই দীপাবলিতে। এবার ভারতের সীমা ছাড়িয়ে বিশ্বর দরবারে পৌঁছে গেল আলোর রোশনাই এর এই উৎসব। দুর্গা পূজার মতো দীপাবলিতেও শামিল হলো বিশ্ববাসী। কারণ এবার ইউনেস্কোর ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ তালিকায় যোগ হলো দীপাবলি।

এর আগে ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপূজা এই তালিকায় স্থান পেয়েছে। বুধবার দেশের কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবরটি জানান। নয়া দিল্লিতে ইউনেস্কোর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে রাষ্ট্রসঙ্ঘের এডুকেশনাল, সায়েন্টিফিক ও কালচারাল অর্গানাইজেশন ঘোষণা করে হেরিটেজ তালিকা ভুক্ত হলো ভারতের দীপাবলি। তারপরেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেশবাসীর উদ্দেশ্যে একথা জানান এক বিবৃতি জারি করে।

গত ৪ ডিসেম্বর ইউনেস্কোর আন্তঃ সরকার কমিটির বৈঠক শুরু হয় লালকেল্লায়। সেখান থেকেই এদিন দীপাবলি মুকুটে এই নয়া পালকের কথা ঘোষণা করে রাষ্ট্রসঙ্ঘের এই সংগঠন। মোট ৭৮টি দেশের মনোনয়ন থেকে ভারতের দীপাবলিকে বেছে নেওয়া হয়।

ভারত এই ২০তম বৈঠকের আয়োজক দেশ। এই সেশন শেষ হবে ১৩ ডিসেম্বর। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে লাল কেল্লার প্রধান মঞ্চে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের সাংস্কৃতিক শিল্পীরা নৃত্য, গীত পরিবেশন করেন। পিছনের মঞ্চে বড় পর্দায় ফুটে ওঠে দীপাবলীর উৎসবের ছবি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শেখাওয়াত বলেন, প্রত্যেক ভারতীয় জন্য দীপাবলি অত্যন্ত আবেগের। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরেই উৎসব চলতেই আছে।

এই স্বীকৃতির পর উচ্ছ্বাসিত প্রধানমন্ত্রী মোদী লিখেছেন, ভারত এবং বিশ্বের মানুষ এই ঘোষণায় রোমাঞ্চিত। আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে দীপাবলি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে। আমাদের সভ্যতার আত্মা। অনন্তের পথে প্রভু শ্রী রামের আদর্শ আমাদের পথ দেখাক।

এই ঘোষণায় শীতে অকাল দীপাবলি উদযাপনের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে রাজধানীতে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত জানিয়েছেন, রাজধানীর সর্বত্র দিপাবলী উদযাপন হবে। সরকারি দপ্তর থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট সর্বত্র আলোক শয্যায় সজ্জিত করা হবে।

দীপাবলির আগে ইউনেস্কোর ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক তালিকায় জায়গা পেয়েছে কুম্ভ মেলা, কলকাতার দুর্গা পুজো, গুজরাটের গরবা নাচ, যোগা, বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ ও রামলীলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *