রাজেন রায়, কলকাতা, ২৭ মার্চ: সকাল থেকেই বিভিন্ন চ্যানেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অডিও টেপ নিয়ে শোরগোল। ওই অডিও টেপ যে মিথ্যা নয়, তা মেনে নিয়েছে তৃণমূলও। তৃণমূলকে চাপে ফেলার পরিকল্পনা করেছিল বিজেপি। পালটা টেপ প্রকাশ করে গেরুয়া শিবির ও নির্বাচন কমিশনের যোগসাজশ নিয়ে প্রশ্ন তুলল রাজ্যের শাসকদল।
শনিবার সাংবাদিক বৈঠক করে ভিডিও প্রকাশের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। এর পরই তৃণমূলের তরফে নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে বিজেপি নেতা মুকুল রায় ও শিশির বাজোরিয়ার কথোপকথন।
ওই অডিও টেপে বিজেপি নেতা শিশির বাজোরিয়ার উদ্দেশে মুকুলকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘নির্বাচন কমিশন কবে আসছে?’ উত্তরে শিশির জানান, ‘২১ তারিখ’। এরপরই মুকুল বলেন, ‘বুথের পোলিং এজেন্ট হওয়ার জন্য কোনও নির্দিষ্ট নিয়ম রাখলে চলবে না। পশ্চিমবঙ্গের যে কোনও ভোটার এজেন্ট হতে পারবেন। আমাদের এটা বলতে হবে।” ওই অডিওতে মুকুল বলেন, নাহলে পশ্চিমবঙ্গের যত বুথ আছে সেখানে এজেন্ট দেওয়া যাবে না। মুকুলকে আরও বলতে শোনা গিয়েছে, “যে স্লিপগুলো বিলি হচ্ছে না, সেগুলো অবজার্ভারের কাছে ফেরত দিতে হবে। এই দুটো পয়েন্ট করে রাখো।’ এই অডিও প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্যনেতা শিশির বাজোরিয়া বলেন, “আমরা কমিশনকে এ বিষয়ে ৩৬ পয়েন্টে একটা চিঠি দিয়েছিলাম। তাতে বুথ এজেন্ট প্রসঙ্গও ছিল। গণমাধ্যমেও বিষয়টি জানিয়েছিলাম।” এর পরই তাঁর প্রশ্ন, “এই অডিওটি তৃণমূলের হাতে কীভাবে গেল? তাহলে কী রাজ্যের গোয়েন্দারা আমাদের ফোন ট্যাপ করছে, আর সেই তথ্য তৃণমূলের হাতে তুলে দিচ্ছে?’
মুকুল-শিশিরের অডিও প্রকাশ করে তৃণমূল প্রমাণ করার চেষ্টা করল, লড়াইটা একপেশে নয়, সেয়ানে সেয়ানে।

