আমাদের ভারত, ২৯ জুন: প্যাকেটজাত মুড়ি, আটা, চালেও এবার জিএসটি লাগু হবে। ১৮ শতাংশ কর বসছে চেক বইতেও। কিছু পণ্যের উপর থেকে কর ছাড়ের সুবিধা তুলে নেওয়ার সুপারিশ করেছিল রাজ্যগুলি। মঙ্গলবার জিএসটি পরিষদ তার অনেকগুলিতেই সায় দিয়েছে। তাই এবার মাছ, মাংস, দই, পনির, চাল, ডাল, আটা, মধু, মুড়ির মতো গোড়া থেকেই প্যাকেট জাত, লেভেল লাগানো পন্যে ৫% জিএসটি বসানো হলো।
চেক বই ইস্যু করতে ব্যাঙ্কগুলি যে ফি নেয় তাতেও মেটাতে হবে ১৮ শতাংশ কর। জিএসটি ব্যবস্থা পর্যালোচনা করতে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে পরিষদের দু’দিনব্যাপী বৈঠক। সেখানে হোটেলে দৈনিক ১০০০ টাকার কম ঘর ভাড়া, মানচিত্র ও চার্টকেও ১২% করের আওতায় আনা হয়েছে। এগুলি এতদিন ছাড়ের সুবিধা ভোগ করতো। লেভেল বা ব্র্যান্ড নাম ছাড়া যেসব পণ্য বিক্রি হয় সেগুলোতে ছাড় বহাল থাকবে।
এলইডি লাইট, ভোজ্যতেল, আঁকা এবং ছাপার কালি, পণ্য তৈরি চামড়া, সোলার ওয়াটার হিটারের মত পণ্যের ক্ষেত্রে কর কাঠামো সংশোধনের সুপারিশ করেছে পরিষদ। অনেকের মতে এর ফলে আগামী দিনে সব জিনিসের জিএসটি হার বাড়তে পারে।
এবারের বৈঠকে রাজ্যগুলিকে জিএসটি ক্ষতিপূরণ দেওয়া নিয়ে প্রশ্নের উত্তর হতে পারে বলে মনে করছে। অভিন্ন পরোক্ষ কর ব্যবস্থা চালুর সময় মোদী সরকার সমস্ত রাজ্যকে কথা দিয়েছিল আদায়ের ক্ষেত্রে তাদের ঘাটতি মেটাতে পাঁচ বছর ক্ষতিপূরণ দেবে কেন্দ্রীয় সরকার। চলতি মাসেই সেই সময়সীমা শেষ হচ্ছে। কেন্দ্রের যুক্তি এর মেয়াদ আরও বাড়ানোর মতো আর্থিক ক্ষমতা তাদের নেই। কিন্তু বিরোধী রাজ্যগুলির দাবি, কর আদায়ে এখনো ঘাটতি হচ্ছে তাদের, ফলে ক্ষতিপূরণের মেয়াদ বাড়ানো হোক। সে ব্যাপারে আলোচনা হবে বুধবার।
এছাড়াও ঘোড়দৌঁড়, ক্যাসিনো এবং অনলাইনে খেলার ওপর ২৮% কর বসানোর বিষয়টি উঠবে।
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্য উপদেষ্টা অমিত মিত্র জিএসটি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সময়সীমা বাড়াতে অনুরোধ করেছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীকে। এদিন তিনি বৈঠকে ঐক্যমতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আর্জি জানিয়ে নির্মলা সীতারামনকে চিঠি দেন। তিনি বলেন, সিদ্ধান্তগুলি সংখ্যার জোরে নয় সর্বসম্মতভাবে নেওয়া হোক। এক্ষেত্রে তিনি সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের কথা উল্লেখ করেছেন। যেখানে বলা হয়েছিল আইনত জিএসটি পরিষদের সিদ্ধান্ত রাজ্যগুলি মানতে বাধ্য নয়। এ ব্যাপারে কেন্দ্র এবং রাজ্য দুপক্ষই আইন তৈরি করতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোতে সকলেই যাতে সহোযোগিতার ছন্দে পরিষদের সিদ্ধান্ত মেনে চলে সেই চেষ্টা করা হয়। তাই সকলের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়ে সর্বসম্মতভাবে তা মেনে চলা বা নিশ্চিত করা উচিত। একইসঙ্গে রাজ্যগুলির দাবি, জিএসটির ভাগ বাড়িয়ে ৭০-৮০ শতাংশ করুক কেন্দ্র যা এখন ৫০% রয়েছে।

