রাজেন রায়, কলকাতা, ২০ জানুয়ারি: এবার খেলা ঘুরছে সম্পূর্ণ উল্টো দিকে। বৈদ্যুতিন সংবাদ মাধ্যমে একটি টক শোতে অভিনেত্রী সায়নীর মন্তব্যকে ঘিরে প্রথমে টুইট যুদ্ধ হয়েছিল ত্রিপুরা ও মেঘালয়ের প্রাক্তন রাজ্যপাল তথা বিজেপি নেতা তথাগত রায় ও সায়নীর মধ্যে। তার প্রেক্ষিতে সায়নীর টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে খুঁজে বার করে ২০১৫ সালের একটি টুইটকে রিটুইট করে তারপর পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। সায়নীর বিরুদ্ধে হিন্দু ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই টুইট পাঁচ বছর বাদে রিটুইট করার জন্য তিনিও সমান দোষী, এমন অভিযোগ এনে খোদ তথাগত রায়ের বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের হল হেয়ার স্ট্রিট থানায়।
২৪ ঘন্টা আগেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দাঁড়িয়েছেন প্রকাশ্যেই সায়নী ঘোষের পাশে। গেরুয়া শিবিরকে কড়া চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে জানিয়েছেন, ক্ষমতা থাকলে গায়ে হাত দিয়ে দেখুক। বাংলায় ধমকানো যাবে না। তারপরেই তথাগত রায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে সেই অভিযোগে জানানো হয়েছে, যে ট্যুইট করে সায়নী ঘোষ হিন্দু ভাবাবেগে আঘাত করেছেন বলে অভিযোগ উঠছে তা রিট্যুইট করে একই অপরাধ করেছেন তথাগত রায়। এই এফআইআর দায়ের করেছেন অজয় দে নামে এক ব্যক্তি।
কিছুদিন আগে বহুল প্রচলিত একটি বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমে টক শোয়ে অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ মন্তব্য করেছিলেন, ‘যে ভাবে জয় শ্রীরাম স্লোগানটিকে রণধ্বনিতে পরিণত করা হয়েছে, তা ভুল। ঈশ্বরের নাম ভালবেসে বলা উচিত।’ ওই মন্তব্যের পর তাঁর সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র বাগযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন বিজেপি নেতা তথাগত রায়।
যদিও সায়নীর ওই টুইটটি নিজের টুইটার হ্যান্ডল থেকে মুছে ফেলেছেন তথাগত। এখানেই শেষ নয় সায়নী ঘোষকে লাগাতার সোশ্যাল মিডিয়ায় আক্রমণ করা হচ্ছে, ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। অজয় কুমার দে-র অভিযোগ, সায়নীকে আক্রমণ করতে গিয়ে তথাগত সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ভাষার ব্যবাহার করেছেন তা অত্যন্ত কূরুচিপূর্ণ ও হিন্দু ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছে। ফলে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ জমে উঠেছে গ্ল্যামারের সঙ্গে রাজনীতির লড়াই।

