আমাদের ভারত, ১৭ জুলাই: দেশে তৃতীয় ঢেউ যে আসবেই তা আগে থেকেই অনুমান করেছিল বিশেষজ্ঞরা। এবার তার সময়ও ঘোষণা করা হল। আগামী আগস্ট মাসের শেষের দিকেই হয়তো দেশে অতিমারির তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়বে, বলে মনে করছে আইসিএমআর। শুক্রবার ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)-এর মহামারি ও সংক্রামক রোগ বিভাগের প্রধান ডঃ সমিরণ পান্ডা সংবাদ মাধ্যমে একথা জানিয়েছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) জানিয়েছে, এই মুহূর্তে তৃতীয় ঢেউয়ের প্রাথমিক স্তরে রয়েছে বিশ্ব। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি দেশে তৃতীয় ঢেউ এসে গেছে করোনার অভিযোজিত নতুন নতুন মারাত্মক প্রজাতির জেরে। ভারতেও সেই প্রজাতিগুলির দেখা মিলেছে। এমনকি বিভিন্ন দেশে তৃতীয় ঢেউ আসার মূল কারণ ‘ডেল্টা ভেরিয়েন্ট’ প্রথম পাওয়া গেছিল ভারতেই।
করোনা আবার তাঁর শক্তি বৃদ্ধি করে কোনও নতুন মিউট্যান্ট তৈরী করে কিনা তা নিয়েও চিন্তিত বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে করোনার ডেল্টা, ডেল্টা প্লাস, কাপ্পা সহ বিভিন্ন প্রজাতির কম বেশি দেখা মিলেছে দেশে। তবে অধিকাংশ নমুনায় থাকে ‘ডেল্টা প্রজাতি’।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, দ্বিতীয় ঢেউয়ে কোভিডের গ্রাফ নিচে নামতে থাকলে বিধি নিষেধে শিথিলতা আনা হয়েছিল। যার ফল হয়েছে বিপরীত। আবার ক্রমাগত সেই গ্রাফ উপরে উঠতে দেখা যাচ্ছে যা পরবর্তী ঢেউকে ডেকে আনছে। এই দিন ডঃ সমিরণ পান্ডা তৃতীয় ঢেউ নিয়ে সমস্ত রাজ্যগুলিকেও বিশেষভাবে সতর্ক করেছেন এবং জানিয়েছেন, প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের যে সব রাজ্যগুলিতে তেমন প্রভাব দেখা যায়নি সে সব রাজ্যেও পড়তে পারে এর গুরুতর প্রভাব। তাই করোনা নিয়ম আরও শক্ত করা এবং অনেক বেশি সচেতন থাকার প্রয়োজন।
তিনি আরও জানিয়েছেন, যেহেতু গোটা দেশে করোনা ভিন্নধর্মী রূপ নিয়েছে রাজ্যেগুলিতে, তাই কোন রাজ্যে কবে এবং কতটা ভয়াবহ রূপ নেবে পরবর্তী ঢেউ, তা বোঝা যাবে সংশ্লিষ্ট রাজ্যে করোনা পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে আছে তা পর্যালোচনা করে।
আমাদের রাজ্যে যেহেতু কোনও ঢেউয়েরই সূচনা হয়নি তাই অন্যান্য রাজ্যগুলিতে করোনার গতিবিধির ওপর নজর রাখতে হবে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তবে আমাদের রাজ্যেও করোনা বিধিনিষেধে নমনীয়তা আনার পর সংক্রমণের সংখ্যা চিন্তা বাড়াচ্ছে। সরকারি সূত্রের খবর গত ২৪ ঘন্টায় ৮৮২ জন সংক্রমিত হয়েছেন এবং ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও চিকিৎসাধীন সংক্রমিতের সংখ্যা কমেছে এবং সংক্রমণ নিম্নমুখী। কিন্তু যে সব এলাকায় বাইরের মানুষের আসা যাওয়া আছে সেখানে জমানো ভিড় উদ্বেগের কারণ বলে জানাচ্ছেন রাজ্যে তৃতীয় ঢেউ মোকাবিলা কমিটির সদস্য ডঃ জ্যোতির্ময় পাল।

