অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ৪ মে: রাজনৈতিক খুনোখুনি বেড়ে যাওয়ায় প্রচারমাধ্যমে বেশি আসছে ময়নাতদন্ত কথাটা। সংসদ বাংলা অভিধান লিখেছে, “আর্বি মুয়ায়নহ্ থেকে এসেছে ময়না।“ উইকিপিডিয়াতে লেখা, ময়নাতদন্ত আরবি ময়না এবং সংস্কৃত তদন্ত মিলে একটি বিশেষণ পদ।
অর্থ-অস্বাভাবিক বা আকস্মিক মৃত্যুর কারণ উদঘাটনের উদ্দেশ্যে শবব্যবচ্ছেদ। ইংরেজিতে “পোস্ট-মর্টেম” শব্দটি ল্যাটিন থেকে পোস্টের জন্য এসেছে, যার অর্থ “পরে” এবং মর্টেমের অর্থ “মৃত্যু”।
‘জি বাংলা’ অন্য তত্ব পরিবেশন করেছে। তাদের কথায়, “আমরা জানি, ময়না পাখি দেখতে মিশমিশে কালো এবং তার ঠোঁট হলুদ। এই পাখি প্রায় তিন থেকে তেরো রকম ভাবে ডাকতে পারে। অন্ধকারে ময়না পাখিকে দেখা যায় না চোখে। অন্ধকারের কালোয় নিজের কালোকে লুকিয়ে রাখে এরা। শুধু মাত্র অভিজ্ঞ মানুষ তার ডাক শুনে বুঝতে পারেন, যে, এটা ময়না পাখি। না দেখা ময়না কে যেমন অন্ধকারে শুধু কণ্ঠস্বর শুনে আবিষ্কার করা যায়, তেমনই পোস্টমর্টেমেও অন্ধকারে থাকা কারণকে সামান্য সূত্র দিয়ে আবিষ্কার করা হয়। সামান্য সূত্র থেকে আবিষ্কার হয় বড় থেকে বড় রহস্যের সমাধান। পাওয়া যায় আসল অপরাধীদের। পাওয়া যায় মৃত্যুর কারণ। তাই পোস্ট মর্টেমের বাংলা হয়েছে – ময়না তদন্ত (২০১৬, ১০ মে)।
২০২১-এর ২৪ জুন ‘গাজীপুর কথা’-তেও একই তত্ব। সঙ্গে লেখা হয়েছে, খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় সহস্রাব্দে প্রথম কোনো মৃতদেহের পোস্টমর্টেম করা হয় বলে জানা যায়। খ্রিষ্টপূর্ব ৪৪ সালে রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজারের মৃত্যুর পর তাঁর মৃতদেহের পোস্টমর্টেম হয়েছিল। তখন এর রিপোর্টে বলা হয়েছিল জুলিয়াস সিজারকে ২৩ বার ছুরিকাঘাত করা হয়েছে।

যাই হোক, বিজ্ঞান বা ইতিহাস নয়, আমার বিচার্য ব্যাকরন। ময়না তদন্ত না ময়নাতদন্ত? দুরকমই দেখা যায়। কোনটা ঠিক? কেন? এ ব্যাপারে ভাষাবিদ তথা ডায়মন্ডহারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডঃ সোমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে জানতে চেয়েছিলাম। তিনি জানান, “ময়নাতদন্ত। একটি কথা। আরবি ভাষা থেকে ‘मुआयना’ শব্দটি এসেছে, যার অর্থ inspection, जांच पड़ताल (Hindi). তদন্ত (সংস্কৃত শব্দ )–সন্ধি বিচ্ছেদ — তদ্ + অন্ত, অর্থাৎ তার শেষ। ভালো করে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে মৃত্যুর কারণ (শেষ) জানা।“
এক্ষেত্রে সুরতহাল কথাটিও চালু। এর অর্থ তদন্তের উদ্দেশ্যে কোনও ঘটনা বা অকুস্থলের চাক্ষুষ বিবরণ; আদালতের এজাহার। আরবি সুরত অর্থ চেহারা, আকৃতি। খুবসুরৎ। আরবি হাল অর্থ বর্তমান কাল, চলতি (হালনাগাদ), বর্তমান (হাল আমলের) প্রভৃতি।

