পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২০ ফেব্রুয়ারি: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন আমি থাকতে সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কেউ এফআইআর করতে পারবে না। কিন্তু দেখা গেল, উনি থাকতে নয়, ওঁর সরকারই সেই ৭ জন সাসপেন্ডেড এইআরও (AERO)- দের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছেন। এভাবেই উনি ওঁদের গাছে উঠিয়ে মই কেড়ে নিয়েছেন। তাই আমরা বলব, সরকারি কর্মচারীরা সাবধান হয়ে যান। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী সঠিক কাজ করুন। বিজেপি-র হয়ে কাজ করতে হবে না।’ বৃহস্পতিবার খড়্গপুর শহরের কৌশল্যাতে দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঠিক এই ভাষাতেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করেন বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা।
তিনি বলেন, ওই ৭ জন সরকারি কর্মচারী বা এইআরও তৃণমূলের নির্দেশে জালিয়াতির কাজ করেছেন। ভুয়ো ভোটারকে তালিকায় রাখার চেষ্টা করেছেন, তাঁদের ইলেকশন কমিশন সাসপেন্ড করেছে। আর রাজ্য সরকারকে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট ইলেকশন কমিশনকে এই ক্ষমতা দিয়েছে। কাজেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সমস্ত কথার কোনও দাম নেই। তিনি চাকরিহারা শিক্ষকদেরও পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন। শেষমেশ তাঁদের উপর লাঠিচার্জ করিয়েছেন। জেলে ঢুকিয়েছেন।
এদিন, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলার অধীন ৬ জন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়কের বিরুদ্ধে বিধানসভা ভিত্তিক ‘চার্জশিট’-ও প্রকাশ করা হয় বিজেপি-র তরফে। যেখানে তৃণমূল বিধায়কদের নানা ব্যর্থতা, দুর্নীতি এবং সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। রাহুল সিনহা বলেন, ‘এই চার্জশিট আমাদের কার্যকর্তারা জনসমক্ষে নিয়ে যাবে। আর ওই এলাকায় তৃণমূলের বিধায়করা গেলেই সাধারণ মানুষ তাঁদের ঘেরাও করে প্রশ্ন করবেন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ১৫টি বিধানসভার মধ্যে ১৩টিতে জয়ী হয় তৃণমূল। এর মধ্যে মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলার ৭টি আসনের মধ্যে খড়্গপুর সদর বাদে ৬টিতে জয়ী হয় তৃণমূল। অন্যদিকে, ঘাটাল সাংগঠনিক জেলাতে ৮টি আসনের মধ্যে ঘাটাল বাদে ৭টিতে জয়ী হয় তৃণমূল।

