পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ১ নভেম্বর: “একটু খাবার পেলেই তারা বেঁচে থাকতে পারেন”, বাবা-মা হারানো অনাথ চার শিশুকন্যার করুন আর্জি। করোনা সঙ্কটকালে বিগত একবছর ধরে অর্ধাহার ও অনাহারে দিন কাটছে এক হতদরিদ্র আদিবাসী পরিবারের। ফিরে তাকায়নি কেউই। সত্তর ঊর্দ্ধ দাদুর বার্ধক্য ভাতার মাত্র ১ হাজার টাকায় চলছে অসহায় পরিবারের সাতটি মানুষের জীবনযাত্রা। যা শুনে নিতান্ত অবাক হয়েছেন অনেকেই। বিগত এক বছরে করোনার লকডাউনে চরম অসহায়তার চিত্র ফুটে উঠেছে অসহায় ওই পরিবারটিতে। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি ব্লকের বিনসিরা গ্রাম পঞ্চায়েতের নওপাড়া এলাকার ঘটনা।
জানাগেছে, হিলির বিনশিরা গ্রাম পঞ্চায়েতের তিওড় নওপাড়া এলাকার বাসিন্দা মুন্সি হেমব্রম। বয়স জনিত কারণে তিনি নিজেই ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারেন না। পেট চালাতে নিজের বার্ধক্য ভাতার উপর নির্ভর করে থাকতে হয় তাকে। চার বছর আগে জামাই সুকল সরেন টিবি রোগে এবং এক বছর আগে করোনাকালে মেয়ে মিনতি হেমব্রমের মৃত্যু হয় ইলেকট্রিক শক খেয়ে। মেয়ে ও জামাইয়ের এমন করুন মৃত্যুর পরে বালুরঘাটের মাহিনগর থেকে তাদের রেখে যাওয়া পাঁচ শিশুকন্যাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন দাদু মুন্সি হেমব্রম। যদিও তাদের মধ্যে বড় নাতনির বিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছেন বৃদ্ধ। সংসারে থাকা বাকি চার নাতনিদের দেখাশোনা করার জন্য বৃদ্ধা দিদা ভুলি হাঁসদাও রয়েছেন। বয়স হলেও তার ভাগ্যে জোটেনি বার্ধক্য ভাতা। অসহায় পরিবারটিতে রোজগেরে ব্যক্তি না থাকায় বৃদ্ধ মুন্সি হেমব্রমের মাসিক এক হাজার টাকার বার্ধক্য ভাতাই তাদের অন্যতম ভরসা। যা দিয়েই বিগত এক বছরে করোনার এই সঙ্কটকালে একপ্রকার অনাহারেই দিন গুজরান করছেন হতদরিদ্র ওই আদিবাসী পরিবারটি। পড়াশোনা তো দূর, প্রাথমিক স্কুলের গন্ডিতেও পা দেননি অনাথ চার বোন সুনিতা, কনিকা, দিপালী এবং শেফালী সোরেনরা। বর্তমানে মাঠে গুগলি সংগ্রহ করেই পেট ভরছে অসহায় ওই চার শিশুকন্যার।
বৃদ্ধ মুন্সি হেমব্রম বলেন, তিনি কর্ম ক্ষমতা হারিয়েছেন। পেনশনের এক হাজার টাকায় কোনও দিন খেয়ে আর কোনও দিন না খেয়ে দিন চলছে তাদের। মা বাবা মরে যাওয়ায় তারা ছাড়া ওই মেয়েদের দেখার আর কেউ নেই।
ছোট্ট সুনীতা এবং কনিকারা বলেন, তারা বাঁচতে চান। একটু খেতে চান, একটু পড়াশোনা করতে চান। কোনও দিন খেয়ে আবার কোনও দিন না খেয়েই দিন চলছে তাদের। তাদের সাহায্যে কেউ এগিয়ে এলে তারা বেঁচে থাকতে পারবে।
ন’পাড়া প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক মনোজ ঘোষ বলেন, খেতে না পারলে পড়াশোনা করবে কিভাবে। প্রশাসনও কোনওভাবে সাহায্য করেনি ওই পরিবারটিকে। মা বাবা হারিয়ে চারটি অনাথ মেয়ের দুর্দশা চোখে দেখা যায় না।
প্রতিবেশী উৎপল বেসরা জানিয়েছেন, অত্যন্ত দরিদ্র পরিবার। আজ অবধি কেউই তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেনি। তাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রশাসনকে দ্রুততার সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ।

