জয়দেব লাহা, দুর্গাপুর, ৯ ডিসেম্বর: “আমাদের কিছু ত্রুটি ছিল। দুর্গাপুর পুর্বে প্রার্থী নির্বাচনেও ভুল ছিল। লোকাল ভালো প্রার্থী হলে জিতে যেতাম। রাজ্যের মানুষের দেহ যেখানেই থাকুক, অন্তরটা নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে। গননার শেষ রাউন্ড পর্যন্ত মাটি আঁকড়ে লড়াই হবে।” বিধানসভা ভোটে নিজেদের ভুল অকপট স্বীকার করে কাঁকসার রূপগঞ্জে নিহত দলীয়কর্মীর স্মরণসভায় এসে পুরভোটে সর্বশক্তি দিয়ে লড়াইয়ের ডাক দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ৯ ডিসেম্বর রাতে দলীয় বৈঠক সেরে ফেরার পথে দুষ্কৃতীদের গুলিতে খুন হন বিজেপি কর্মী সন্দীপ ঘোষ। কাঁকসার রূপগঞ্জের বাসিন্দা সন্দীপ ঘোষ এর মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্যজুড়ে হইচই হয়। ওই ঘটনার তিন বছর পর নিহত বিজেপি কর্মী সন্দীপ ঘোষকে শ্রদ্ধা জানাতে রূপগঞ্জ গ্রামে তাঁর বাড়ি আসেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সহ একাধিক বিজেপি বিধায়ক। এদিন তিনি প্রয়াত সন্দীপ ঘোষ এর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং তার পরিবারের পাশে সর্বদা থাকার আশ্বাস দেন। এর পাশাপাশি রূপগঞ্জ গ্রামের মোড়ে সন্দীপ ঘোষের আবক্ষ মুর্তিতে মাল্যদান করে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সহ বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা।
স্মরণসভার মঞ্চ থেকে জেলায় অবৈধ বালি পাচারের বিরুদ্ধে আবারও সরব হন তিনি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারি বলেন,” বাঁকুড়ার সব বালিঘাট থেকে পুলিশ ৫ লক্ষ টাকা করে তুলে কলকাতায় পাঠিয়েছে। পশ্চিম বর্ধমান, বীরভুম, পুরুলিয়া থেকে মিনিমাম ২০০০ কোটি টাকা তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড তুলে নিয়ে গেছে।” বিগত বিধানসভা নির্বাচন ও উপনির্বাচনে রোহিঙ্গা ভোটব্যাঙ্ক নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। একই সঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে নিজেদের ভুল অকপট স্বীকার করে নিয়ে আগামী পুরভোটে বিজেপির লড়াই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ” গ্রামের রাস্তা দিয়ে আসার সময় এখনও মানুষের উৎসাহ নজর করেছি। দু হাত তুলে নমস্কার করেছে গ্রামের মানুষ। রাজ্যের মানুষের দেহ যেখানেই থাকুক, অন্তরটা নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে।”

আগামী পুরভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গত দুর্গাপুর পুরভোটে তৃণমূল কিভাবে বাইরে থেকে লোক নিয়ে এসে ভোট করিয়েছে মানুষ সেসব দেখেছে। মানুষের সেই ক্ষোভ লোকসভায় প্রতিফলিত হয়েছে। লোকসভা ভোটে দুর্গাপুরের এক একটা বিধানসভা ভিত্তিক ফলাফলে বিজেপি ১ লক্ষের বেশী ভোটে এগিয়ে। বিধানসভা নির্বাচনে আমাদের কিছু ত্রুটি ছিল। দুর্গাপুর পুর্বে প্রার্থী নির্বাচনে ভুল ছিল। লোকাল ভালো প্রার্থী হলে জিতে যেতাম। পুরসভা ভোটে প্রত্যেক ওয়ার্ডে লড়াই হবে। সর্বাত্মক সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই হবে। গননার শেষ রাউন্ড পর্যন্ত মাটি আঁকড়ে লড়াই হবে।” তিন বছর পরও নিহত কর্মীর সব অভিযুক্তরা গ্রেফতার না হওয়ায় ও সুবিচারের প্রশ্ন করতেই তিনি বলেন, “তৃণমূলের জামানায় খুন কে খুন হিসাবে দেখা হয় না। কোন দলের লোক খুন হয়েছে, অভিযুক্তরা কোন দলের, সেটা দেখা হয়। এখানে অভিযুক্তরা তৃণমূলের তাই তাদের গ্রেফতার করা হয়নি। হয়তো চার্জশিট থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। নিহত কর্মীর পরিবার পুলিশের তদন্তে সন্তুষ্ট নন। উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চাইছেন। তার জন্য সব রকমভাবে আইনী সহায়তা করা হবে।”

