বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই! রাশিয়ার স্পুটনিক লাইটের তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল নাকচ করল কেন্দ্র

আমাদের ভারত, ১ জুলাই : রাশিয়ার টিকা স্পুটনিক লাইটের তৃতীয় পর্যায়ে ট্রায়ালের জন্য ওষুধ সংস্থা ডক্টর রেড্ডি’জকে অনুমতি দিল না কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ কমিটি (এসইসি)। এই টিকার তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালকে বৈজ্ঞানিক ভাবে ভিত্তিহীন বলেছে কমিটি।

এছাড়া সেরাম ইনস্টিটিউটের কোভোভ্যাক্স ট্রায়ালের আবেদনও নাকোচ করে দিয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্রের খবর, বুধবার বৈঠকে স্পুটনিক লাইটের তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল নিয়ে আলোচনা করেন কেন্দ্রীয় ড্রাগস নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই বিশেষ কমিটির বিশেষজ্ঞরা। আলোচনার পর কমিটি, তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই বলে ডক্টর রেড্ডি’জ কর্তৃক ট্রায়ালের আবেদন নাকোচ করে দেয়।

স্পুটনিক ভি টিকাকরণে দুটি ডোজ নিতে হয়। প্রথম ডোজে ‘এডি২৬’ দেওয়া হয় যা স্পুটনিক ভি-এর মূল টিকা এবং দ্বিতীয়টি হল ‘ এডি–৫’ যা মূল টিকার কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে অর্থাৎ এটি একটি বুস্টার ডোজ। আর এই মূল ডোজ ‘এডি২৬’ থেকেই তৈরী হয়েছে সিঙ্গল ডোজের স্পুটনিক লাইট।

সূত্রের খবর, এই কারণেই এসইসি-র তরফ থেকে বলা হয়েছে, যেহেতু ডক্টর রেড্ডি’জ-এর স্পুটনিক ভি’র ট্রায়াল চালানোর পর ততটা ভালো ফল পাওয়া যায়নি সেহেতু মূল ডোজ থেকে তৈরী হওয়া স্পুটনিক লাইটের তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের কোনও বৈজ্ঞনিক যুক্তি নেই।

রাশিয়ায় ‘মাস ভ্যাক্সিনেশন প্রোগ্রাম’ চলাকালীন স্পুটনিক লাইটের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছিল এবং গত মে মাসে রাশিয়াতে এই টিকাকে প্রকাশ্যে আনা হয়। একই সঙ্গে তার কার্যকারিতা ৭৯.৪ শতাংশ বলেও দাবি করা হয়। যদিও স্পুটনিক ভি’র তুলনায় এর কার্যকারিতা কম বলে জানানো হয় রাশিয়ার পক্ষ থেকে।

ভারত অনুমতি দিলে স্পুটনিক লাইটই ভারতের প্রথম সিঙ্গল ডোজের টিকা হত। এছাড়া ভারতে এর দাম প্রায় ৭৩০ টাকার কাছাকাছি হত বলেও সূত্রে জানা গেছে।
হায়দ্রাবাদের ওষুধ সংস্থা ডক্টর রেড্ডি’জ রাশিয়ার স্পুটনিক ভি টিকা ভারতে আমদানি, বিতরণ এবং উৎপাদনের একমাত্র অনুমোদিত সংস্থা। ভারতে স্পুটনিক ভিকে আপাতকালীন ব্যবহারের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছিল চলতি বছরের এপ্রিল মাসেই। ইতিমধ্যেই, দিল্লির ইন্দ্রপ্রস্থের অ্যাপেলো হাসপাতালে প্রায় এক হাজার জনকে ওই টিকা দেওয়া হয়েছে বলে খবর। প্রথম ডোজ নিতেই হাসপাতাল চার্জ এবং ট্যাক্স সমেত ১১৪৫ টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে প্রতিটি গ্রাহককে।

অন্যদিকে, সোমবার ডিসিজিআই-এর কাছে ২ থেকে ১৭ বছরের শিশু কিশোরদের ওপর কোভোভ্যাক্সের ট্রায়ালের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিল সেরাম ইনস্টিটিউট। সূত্রের খবর সেই আবেদনও খারিজ করে দেয় কেন্দ্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *