চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগেও দুর্নীতি তৃণমূল পরিচালিত বালুরঘাট পুরসভায়! বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ঘুরছে নামের তালিকা

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ২৯ আগস্ট: চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগে দুর্নীতির আভাস তৃণমূল পরিচালিত বালুরঘাট পৌরসভায়। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নাম বদল করে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানোর অভিযোগ বিজেপির। বিজ্ঞপ্তিতে একাধিক ভুল ধরিয়ে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবিতে মহকুমা শাসককে অভিযোগ দায়ের বিজেপির। বুধবার এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

যদিও সম্পূর্ণ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বালুরঘাট পৌরসভার চেয়ারম্যান অশোক মিত্র। তিনি বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই হচ্ছে। বিজেপির কাজ শুধু অভিযোগ করা, তাই অভিযোগ করছে। সেই উত্তর দিতে তিনি রাজি নন।

জানাগেছে, তৃণমূল পরিচালিত বালুরঘাট পৌরসভা গত ১৮ আগস্ট ‘নির্মল সাথী’ এবং ‘নির্মল বন্ধু’ নামে দুটি পদের চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করে। বালুরঘাট পৌরসভার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ওই বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। ৩০ আগস্টের মধ্যে বালুরঘাট পৌরসভার চেয়ারম্যানের নিকট সেই আবেদনপত্র পৌঁছানোর সময়সীমাও শেষ হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে নির্মল সাথীর জন্য স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা অগ্রগণ্য। নিয়োগ হলে নির্মল সাথী দৈনিক মজুরি ৩০৩ টাকা এবং নির্মল বন্ধুর জন্য দৈনিক মজুরি ২০২ টাকা দেওয় হবে। এদিন সেই বিজ্ঞপ্তিতে একাধিক ভুল ধরিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে সম্পূর্ণরূপে পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবিতে বালুরঘাটের মহকুমা শাসককে অভিযোগ করেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা বিজেপির সদস্য সুমন বর্মন।

বিজেপি নেতা সুমন বর্মন বলেন, অবাক করা বিষয়, বিজ্ঞপ্তিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নেই। যেটা আবেদনকারী হিসেবে অবশ্যই জানার দরকার। সুমন বর্মন বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প স্বচ্ছ ভারত মিশনের নাম বদল করে বিজ্ঞপ্তিতে নির্মল সাথী এবং নির্মল বন্ধু এই দুটি পদের জন্য কতজনকে চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে নিয়োগ করা হবে তার কোনো উল্লেখ নেই। পাশাপাশি চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের কিভাবে নিয়োগ করা হবে অর্থাৎ সরাসরি মৌখিক ইন্টারভিউ না লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে সেই বিষয়টিরও উল্লেখ নেই। এছাড়াও একাধিক অসঙ্গতি তুলে ধরেন বিজেপি নেতা সুমন বর্মন। তিনি বলেন, নিজেদের লোকজনকে পাইয়ে দিতেই এমন অসঙ্গতিপূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়া।

সুত্রের খবর অনুযায়ী, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অনেক আগে থেকেই শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে এই কর্মীদের তালিকা তৈরি করে রেখেছে শাসক দল। যা শুধুমাত্র ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে না, চায়ের দোকান বা পানের দোকানেও শোনা যাচ্ছে কোন ওয়ার্ডে কার কার চাকরি হচ্ছে। যা ইতিমধ্যে অনেককেই অবাক করেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হওয়া বা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে কিভাবে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে তালিকা তৈরি হল তা যেন বুঝতে সময় নেননি শহরবাসী। তৃণমূল পরিচালিত বিগত পুরবোর্ডের আমলে শহরে যে লাগামহীন দুর্নীতি সামনে এসেছিল তা থেকে যেন কোনো ভাবেই পিছু হটছে না বর্তমান পুরবোর্ডও, বলেই মনে করছেন অনেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *