জয় লাহা, দুর্গাপুর, ২৭ জুন: প্রায় দেড় দশক যাবৎ বন্ধ কারখানা। পড়ে রয়েছে কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি। নজরদারির অভাবে চুরি যাচ্ছে জাতীয় সম্পত্তি। নজরদারির নামে কারখানার জমিতে অবাধে চলছে সিন্ডিকেটরাজ। কারখানার জমিতে গড়ে উঠেছে সাইকেল স্ট্যান্ড। ভাড়ায় খাটছে সংস্থার আবাসন। মোটা টাকার বিনিময়ে সংস্থার পুকুরে চলছে মাছ চাষ। এমনই রমরমা ব্যবসা চলছে দুর্গাপুরের বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত বার্ণ স্ট্যান্ডার্ড কারখানায়। প্রশ্ন উঠেছে সরকারি নজরদারি নিয়ে। প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিজেপি।
দুর্গাপুর রেল স্টেশন লাগোয়া রাষ্ট্রায়ত্ত বার্ন স্ট্যান্ডার্ড কারখানা। ১৯০৫ সালে তৈরী হলেও ১৯৭৭ সালে কারখানাটি কেন্দ্র সরকার অধিগ্রহন করে। প্রায় ৬০ একর জমির ওপর কারখানাটি। কারখানা চত্ত্বরে রয়েছে তিনটি পুকুর। মুলত ফায়ার ব্রিকস, উন্নতমানের টালি তৈরী হত। ওই ফায়ার ব্রিকস বিভিন্ন কারখানার ফার্নেস তৈরীতে ব্যাবহৃত হয়। সাতের দশকে কারখানাটিতে কর্মী সংখা ছিল প্রায় পাঁচ’শ। গত ২০০০ সালে কর্মীদের স্বেচ্ছাবসর দিয়ে কারখানাটি বন্ধ করে দেয়। ওই সময় একটি বেসরকারী সংস্থা কারখানার নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োগ হয়। কিন্তু বছর দুয়েক পর ওই সংস্থাটি পাততড়ি গুটিয়ে চলে যায়। আর তারপর থেকে কারখানায় দুষ্কৃতিদের স্বর্গরাজ্য হয়ে ওঠে। ক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি। অবাধে চুরি হতে থাকে কারখানার মুল্যবান যন্ত্রাংশ। বন্ধ কারখানার জমিতে চলছে সাইকেল স্ট্যান্ড। নজরদারির নামে কারখানার সম্পত্তি ব্যবহার করে চলছে রমরমিয়ে ব্যবসা।

কারখানা চত্ত্বরে রয়েছে বার্ন স্ট্যান্ডার্ড কোম্পানির বেশ কয়েকটি আবাসন রয়েছে, যেগুলি রুম পিছু মাসে হাজার থেকে দু হাজার টাকায় ভাড়া খাটাচ্ছে। শুধু তাই নয়, স্টেশনের সামনে থাকায় রমরমিয়ে চলছে সাইকেল স্ট্যান্ডের ব্যাবসা। জাতীয় সম্পত্তি ওইভাবে চুরি যাওয়ার প্রতিবাদে সরব হয় বিজেপি। কয়েকদিন আগে বন্ধ কারখানা পরিদর্শনে যান দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘড়ুই। পরিস্থিতে দেখে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দুর্গাপুরের বিজেপি কাউন্সিলার চন্দ্রশেখর ব্যানারর্জি ইতিমধ্যে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি বলেন, “কারখানার চত্ত্বরে থাকা ৩টি পুকুর রয়েছে। বছরে লক্ষাধিক টাকার মাছ চাষ হচ্ছে। কারখানার আবাসন ভাড়ায় খাটছে। সাইকেল স্ট্যান্ড চলছে। রাষ্ট্রায়ত্ত বন্ধ কারখানার জমিতে রমরমিয়ে চলছে সিন্ডিকেট রাজ। সবই তৃণমূলের কিছু নেতার মদতে চলছে। কারখানার ইট, লোহার রড, নানান সামগ্রী অবাধে লুট হচ্ছে। এর পিছনেও তৃণমূলের মদতপুষ্ট একশ্রেণির সমাজ বিরোধী রয়েছে। আমরা পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছি। অভিযোগ জানানোয় আমার প্রাণনাশের হুমকি এসেছে। সেবিষয়েও থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।”
প্রশ্ন উঠেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত করাখানার জমিতে কিভাবে ভাড়ায় খাটানো হচ্ছে? কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি কেন নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে রয়েছে? যদিও জাতীয় রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব রাজ্য ও কেন্দ্র উভয় সরকারের। অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে দুর্গাপুর পুরসভার ৪ নং বরো চেয়ারম্যান সুনীল চ্যাটার্জি বলেন, “ওইসব ঘটনায় তৃণমূলের কেউ জড়িত নয়। বিজেপি মিথ্যা অভিযোগ তুলছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ওই বন্ধ কারখানার সম্পত্তি নিরাপত্তার দায় কেন্দ্র সরকারের। কেন্দ্র সরকার কেন রক্ষণাবেক্ষণ করছে না?”

