আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, বীরভূম, ২৮ অক্টোবর: এক যুবকের সঙ্গে নাবালিকার মেলামেশা প্রকাশ্যে আসায় সালিশি সভা বসিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হল ভিনজাতের যুবকের পরিবারকে। ঘটনার পরেই কীটনাশক খেয়ে আতহত্যার চেষ্টা করে নাবালিকা। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বোলপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
জানা গিয়েছে, বীরভূমের পাঁড়ুই থানার কসবা গ্রামের এক বিবাহিত যুবক গোপালনগর গ্রামের এক আদিবাসী নাবালিকার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই মেলামেশা করত। বৃহস্পতিবার তাদের দু’জনকে মেলামেশা করতে দেখে গ্রামবাসীরা ধরে ফেলে। দু’জনকেই আটকে রাখা হয় একটি স্কুল ঘরে। ঘটনার খবর পেয়ে গ্রামে পুলিশ পৌঁছোয়। কিন্তু আদিবাসীরা পুলিশে অভিযোগ না জানিয়ে পরদিন সকালে সালিশি সভা বসায়। এরপরেই যুবকের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে। যুবকের পরিবার জরিমানা দিতে রাজি হয়ে যাওয়ায় ছেলেমেয়ে দু’জনকেই নিজের নিজের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপরেই বাড়িতে গিয়ে কীটনাশক খেয়ে আতহত্যার চেষ্টা করে নাবালিকা।
ঘটনার খবর পেয়ে ফের গ্রামে যায় পুলিশ। নাবালিকার বাবার বয়ান রেকর্ড করে। পুলিশের সামনে নাবালিকার বাবা যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে রাজি হননি। তিনিও বলেন, “মেয়ের কোনো ক্ষতি হলে অভিযোগ দায়ের করব। তখন যেন পুলিশ তাকে কঠোর শাস্তি দেয়। এখন অভিযোগ দায়ের করলে জরিমানার টাকা মিলবে না। তখন মেয়ের বিয়ে দিতে পারব না”।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নাবালিকা এখন সুস্থ আছেন। ইতিমধ্যে পাঁড়ুই থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তবে নাবালিকাকে ধর্ষণ কিংবা যৌন নিপীড়নের কথা প্রেস বিবৃতি দিয়ে অস্বীকার করেছে পুলিশ।

