আমাদের ভারত, তমলুক, ১৭ জুন: ছয় বছর আগে মঞ্চে উঠে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে চড় মেরেছিল যে যুবক, সেই দেবাশীষ আচার্যের রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হল। ১৪০ নম্বর জাতীয় সড়কের ধার থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে পাওয়া যায়। পরে তমলুক জেলা হাসপাতালে মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, খুন করা হয়েছে দেবাশীষকে। একই অভিযোগ তুলেছে বিজেপি।
বছর ছয়েক আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চন্ডিপুরে সভা করতে এসেছিলেন, সেইদিন স্টেজে উঠে সটান চড় কষিয়ে ছিলেন দেবাশীষ আচার্য। সেই দিন বেধড়ক মারে গুরুতর আহত হয় সে। গত বিধানসভা ভোটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কাঁথির মারিশদাতে যখন সভা করতে এসেছিলেন তার আগে আগে বিজেপি নেতা কনিষ্ক পান্ডার পাশে বসে হুঁশিয়ারি মূলক বেশকিছু কথা বলেছিলেন। সেই দেবাশীষ আচার্যকে গতকাল রাতে অপহরণ করে খুন করার অভিযোগ তুলল তাঁর পরিবারের লোকজন। খুনের অভিযোগ তুলেছে বিজেপিও।

পরিবার সূত্রে জানাগেছে,গতকাল রাতে দুই বন্ধুর সঙ্গে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় দেবাশীষ আচার্য। পরে তমলুক থানার সোনাপেত্যা টোলপ্লাজার কাছে চা দোকানে দুই বন্ধুকে বসিয়ে রেখে একজনের সঙ্গে দেখা করতে বেড়িয়ে যায় দেবাশীষ। অনেকক্ষণ পরে না ফিরে আসায় ও ফোনে যোগাযোগ করতে না পেরে বন্ধুরা বাড়ি ফিরে আসে। পরে আজ ভোর চারটে নাগাদ স্থানীয় মানুষজন টোলপ্লাজার থেকে বেশ কিছুটা দূরে রক্তাক্ত অবস্থায় জাতীয় সড়কের পাশে দেবাশীষকে দেখতে পায়। সেখান থেকে তারা তুলে তমলুক জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে দিয়ে যায়। আজ দুপুর বেলা তাঁর হাসপাতালে মৃত্যু হয়। তার মাথায় ও মুখে গভীর আঘাতের চিহ্ন ছিল। মাথায় মুখে আঘাত থাকায় তাকে চেনা যায়নি। পরে নিখোঁজ থাকায় তমলুক থানায় জানানো হলে থানা থেকে বাড়িতে খবর দিলে পরিবারের লোকেরা গিয়ে তাঁকে শনাক্ত করে।

যদিও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে দুর্ঘটনাজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। একথা মানতে নারাজ পরিবার ও বিজেপি। এই ঘটনার জেরে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

