অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ২৪ ফেব্রুয়ারি: ইউক্রেনের ওপর রুশ আক্রমণ নিয়ে উত্তাল বিশ্ব। কিন্তু ইউক্রেন সম্পর্কে আমাদের ধারণা কতটা?
ইংরেজিতে লেখা হয় ইউক্রেইন, মূল ভাষায় বলা হয় উক্রাইন। ড. মোহাম্মদ আমীন এ কথা জানিয়ে লিখেছেন, “উক্রাইন পূর্ব ইউরোপের একটি রাষ্ট্র। রাশিয়ার পরে এটি ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্র। এর পশ্চিমে পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া ও হাঙ্গেরি, দক্ষিণ-পশ্চিমে রোমানিয়া ও মলদোভা, দক্ষিণে কৃষ্ণ সাগর ও আজভ সাগর, পূর্বে ও উত্তর-পূর্বে রাশিয়া এবং উত্তরে বেলারুশ। দক্ষিণে ক্রিমেয়া উপদ্বীপে অবস্থিত স্বায়ত্তশাসিত ক্রিমেয়া প্রজাতন্ত্র ইউক্রেনের সীমান্তের মধ্যে পড়েছে। কিয়েভ ইউক্রেনের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর।
ইউক্রেনের অধিকাংশ এলাকা কৃষিকাজের উপযোগী উর্বর সমভূমি। এটি খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। এর অর্থনীতি উন্নত এবং কৃষি ও শিল্পখ্যাত যথেষ্ট বড়।
ইউক্রেনের মোট আয়তন ৬,০৩,৫০০ বর্গকিলোমিটার বা ২,৩৩,০১৩ বর্গমাইল। তার মধ্যে জলীয় ভাগের পরিমাণ ৭%। ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের হিসাবমতে ইউক্রেনের জনসংখ্যা ৪,৪৪,২৯, ৪৭১ এবং প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যা ৭৩.৮ জন। আয়তন বিবেচনায় ইউক্রেন পৃথিবীর ৪৬-তম বৃহত্তম দেশ কিন্তু জনসংখ্যা বিবেচনায় ৩২-তম। আবার জনসংখ্যার ঘনত্ব বিবেচনায় এটি পৃথিবীর ১১৫-তম জনবহুল দেশ। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ। সরকারি ভাষা ইউক্রানিয়ান। এছাড়া এখানে আরও ১৮টি ভাষা প্রচলিত।

ইউক্রেনের অধিবাসীদের ইউক্রাইনিয়ান বলা হয়। ৯ম শতক থেকে ইউক্রেনের উত্তর অংশ কিয়েভান রুশের অংশ ছিল। কিয়েভান রুশ ছিল প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব স্লাভিয় রাষ্ট্র। ১৩শ শতকে মোঙ্গল আক্রমণে এর পতন ঘটে। এর পর বহু শতক ধরে ইউক্রেন বিভিন্ন বিদেশি শক্তির পদানত ছিল। ১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দে ইউক্রেনে একটি বলশেভিক সাম্যবাদী সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।“
১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে সোভিয়েত ইউনিয়নের চারটি প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের অন্যতম প্রজাতন্ত্র হিসাবে ইউক্রেন আত্মপ্রকাশ করে। ইউক্রেনে ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ আগস্ট সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করে। ওই বছর ডিসেম্বর মাসের ১ তারিখ এক গণভোটে স্বাধীনতার প্রতি জনগণ সমর্থন দেয়। ইউক্রেনের এই ঘোষণা সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনে একটি বড় ভূমিকা রাখে। ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ জানুয়ারি ইউক্রেনের বর্তমান জাতীয় পতাকা গ্রহণ করা হয়।

ইউক্রেনে এক সবুজে মোড়া সুড়ঙ্গ পথ আছে ক্লেভন টাউনে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো যে এই সুড়ঙ্গ পথ কোনো মানুষ নির্মাণ করেনি। সবুজ গাছেরা একটু একটু করে বাড়তে বাড়তে এক নিঁখুত খিলান বানিয়েছে। প্রায় ৫ কিলোমিটার লম্বা সুড়ঙ্গটি থেকে যেন এক সবুজ আলোকরশ্মির বার হয়। ভলিন এর আদর্শ আকর্ষণ এই জায়গা।

বেশ কিছুদিন ধরেই ঠান্ডা লড়াই চলছিল ইউক্রেন এবং রাশিয়ার। ইউক্রেন অতীতে সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে-চুরে ছোট বড় অনেক দেশে পরিণত হয়। ইউক্রেন তার মধ্যে একটি। ইউক্রেন ন্যাটো জোটের সঙ্গে যোগ দিতে চায় কিন্তু রাশিয়া সেটা মেনে নিতে পারছিল না। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আমেরিকা পছন্দ করছিল না ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার চাপ সৃষ্টি করাকে। পুতিন ইউক্রেন আক্রমণ করার পেছনে যে অজুহাত সৃষ্টি করেছেন তা শুধু পশ্চিমাদের উসকানি দেওয়ার প্রবণতা মাত্র। তাছাড়া পুতিন হয়তো ভাবছেন, এতে নিজ দেশের মানুষের কাছেও তার গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেড়ে যাবে। রাশিয়া তার গৌরবময় প্রাধান্য ফিরে পেতে এ অঞ্চলে ভীতি প্রদর্শন ও সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতে চাইছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

