পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, ঝাড়গ্রাম, ১ জুলাই: দলছুট বুনো হাতির হানায় একের পর এক মৃত্যু। অবশেষে ঘুমপাড়ানি গুলি করে ধরা হলো বুনো হাতিটিকে। শুক্রবার রাত থেকে অপারেশন শুরু হলেও শনিবার দুপুরে সাফল্যের মুখ দেখতে পায় বনদপ্তরের কর্মীরা।
বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, দলছুটে দাঁতাল হাতিটির হানায় পশ্চিম মেদিনীপুরের দু’জন এবং ঝাড়গ্রামের একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও এই হাতিটি জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ে প্রায়ই হানা দিচ্ছিল। যার জেরে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল এলাকার মানুষজন। অবশেষে বনদপ্তর উচ্চপর্যারে আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করে হাতিটিকে পাকড়াও করার সিদ্ধান্ত নেয়। ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের অন্তর্গত লোধাশুলি রেঞ্জের বিরিহাঁড়ি বিটের কাজলার জঙ্গলে দিন কয়েক ধরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল দলছুট হাতিটি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গ্রামীণ হাট থেকে বাড়ি ফেরার পথে হাতির হানায় কাজলা গ্রামের এক গ্রামবাসীর মৃত্যু ঘটে। ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল এলাকার মানুষজন। এদিন ভোরে হাতিটিকে প্রথমে কাজলার জঙ্গলে ঘুমপাড়ানি গুলি করে কাবু করা হয়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য বনপাল (পশ্চিম চক্র) অশোক প্রতাপ সিং, ঝাড়গ্রামের ভারপ্রাপ্ত ডিএফও শিবানন্দ রাম। কাজলার জঙ্গলের এক কিলোমিটার ভেতরে হাতিটি পেঙ্কুলাইজ হয়। প্রথমে হাতিটির দুটি চোখ গামছায় ঢেকে দেওয়া হয়। জঙ্গলের ভিতর হাইড্রা মেশিন ঢুকিয়ে হাতিটিকে বেল্টের সাহায্যে বেঁধে ঝুলিয়ে জঙ্গল থেকে বাইরে নিয়ে আসা হয়। তারপরে বড় লরিতে তুলে ঝাড়গ্রামের জঙ্গলমহল জুলজিক্যাল পার্কে নিয়ে যাওয়া হয় বুনো হাতিকে।
তবে এখনও পর্যন্ত হাতিটিকে উত্তরবঙ্গে নিয়ে যাওয়া হবে, নাকি অন্য কোনো জঙ্গলে ছাড়া হবে, নাকি ঝাড়গ্রামের জঙ্গলমহল জুওলজিক্যাল পার্কে রাখা হবে তা স্পষ্ট করেননি বনকর্তারা।

