সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২০ আগস্ট: ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙল। স্বামীর খুনের তদন্তের হালহকিকত জানতে শেষ পর্যন্ত সিবিআইয়ের ঝালদার অস্থায়ী ক্যাম্পে হাজির হন নিহত তপন কান্দুর স্ত্রী পূর্ণিমা। বেশ কিছুক্ষণ ছিলেন তিনি। সিবিআইয়ের আধিকারিকদের সঙ্গে তিনি কথা বলেন।
গত ১৩ মার্চ দুষ্কৃতীদের হাতে খুন হন ঝালদা পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কান্দু। হাইকোর্টের নির্দেশ পেয়ে তদন্ত করছে সিবিআই। দীর্ঘ পাঁচ মাস পরেও ধরা পড়েনি সুটার। এতদিনে পরিস্থিতির খোঁজখবর নিতে ঝালদার অস্থায়ী ক্যাম্পে হাজির হন নিহত কাউন্সিলরের স্ত্রী পূর্ণিমা কান্দু।

বিষয়টি নিয়ে পূর্ণিমা কান্দু জানান, “অনেকদিন হল তাই খোঁজ খবর নিতেই দেখা করতে গিয়েছিলাম। জানতে চেয়েছিলাম সুটার ধরা পড়ছে কি না? তদন্ত কতদূর পৌঁছেছে, আর কতদিন লাগবে? যদিও সিবিআই দফতর থেকে আমাকে তাঁরা বলেছেন শীঘ্রই ফল পাবেন। দোষীরা কেউ রেহাই পাবে না। আমার এখনও সিবিআইয়ের উপর ভরসা আছে। আমি আশাবাদী সিবিআই দোষীদের রেহাই দেবে না।”
প্রসঙ্গত, তপন কান্দুর পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতেই গত ৪ এপ্রিল এই ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট৷ তপন খুনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন তাঁর বন্ধু নিরঞ্জন বৈষ্ণব। তারও রহস্যজনক মৃত্যু হয় ৬ এপ্রিল। নিরঞ্জন বৈষ্ণবের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়৷ সেদিনই ঝালদায় এসে সিট-এর কাছ থেকে তদন্তভার হাতে নেয় সিবিআই৷ এরপর সিট-এর হাতে গ্রেফতার হওয়া চার অভিযুক্তকেও নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করেন সিবিআই আধিকারিকরা৷ এই চার অভিযুক্ত হলেন দীপক কান্দু, নরেন কান্দু, আশিক খান ও কলেবর সিং৷ তাঁদের জেরা করে আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়৷ এই পঞ্চম অভিযুক্তের নাম সত্যবান প্রামাণিক।বর্তমানে এই পাঁচ অভিযুক্তই বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন৷ সোমবার সিবিআই যে চার্জশিট জমা দিয়েছে, তাতে এই পাঁচজনকেই মূলত কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে৷ ১৩ জুন সিবিআইয়ের পক্ষ থেকে জেলা আদালতে চার্জশিট পেশ করা হয়।

