বালুরঘাটে কালবৈশাখীর তান্ডবে উড়লো আস্ত ঘর, চৌকির নীচে আশ্রয় নিয়ে জীবন বাঁচলো মা ও ছেলের

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৩০ এপ্রিল: কালবৈশাখীর তাণ্ডবে উড়লো আস্ত ঘর। ভেঙ্গে পড়লো বিদ্যুতের খুঁটি, উপড়ে গেল আস্ত বটগাছ। ত্রস্ত বালুরঘাটের জনজীবন। চৌকির নীচে আশ্রয় নিয়ে জীবন বাঁচলো মা ও ছেলের। শনিবার এমন ঘটনার খবর পেয়ে কলকাতা থেকে ফিরেই এলাকায় গিয়ে ওই অসহায় পরিবারের খোঁজ নিলেন বালুরঘাটের সাংসদ, করলেন আর্থিক সহায়তাও। শুক্রবার রাতে দফায় দফায় কালবৈশাখীর তান্ডবে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে বালুরঘাটের জনজীবন, বিচ্ছিন্ন হয় শহরের বিদ্যুৎ সংযোগ। ঘটনার পরেই সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে রাত থেকেই মাঠে নামতে দেখা যায় পুরসভার জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদেরও। যদিও প্রশাসনিক উদাসীনতার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ তথা বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।

ওইদিন সন্ধ্যায় ঘন কালো মেঘে আকাশ ঢাকতেই শুরু হয় কালবৈশাখীর তান্ডব। যে সময় ছোট্ট ছেলেকে নিয়ে বঙ্গী বাদুড় তলা এলাকায় বাড়িতে একাকিই ছিলেন চুমকি মহন্ত। ঝড়ের দাপটে টিনের চাল ও টিনের বেড়া উড়ে যেতেই চৌকির নীচে আশ্রয় নিয়ে নিজেদের জীবন বাঁচান ওই অসহায় পরিবার। একইরকমভাবে সন্ধে রাতে ওই কালবৈশাখীর তান্ডবে তছনছ হয় গোটা বালুরঘাট শহর ও তার আশপাশের বেশকিছু এলাকা। বহু জায়গায় উপড়ে পড়ে ইলেকট্রিকের পোল ও গাছ। শহরের হাসপাতাল মোড় এলাকায় বহু প্রাচীন একটি বটগাছ উপড়ে পড়ে কিছুটা বিচ্ছিন্ন হয় যোগাযোগ ব্যবস্থা। যদিও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে রাতেই স্বাভাবিক হয়েছে সেই এলাকার পরিস্থিতি। এদিকে এই ঝড়ের তান্ডবের পর সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলতে দেখা গেছে জেলাশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারকে। যদিও কালবৈশাখীর তান্ডব নিয়ে প্রশাসনের উদাসীনতার অভিযোগ তুলেছেন বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ।

চুমকি মহন্ত নামে ওই অসহায় মহিলা বলেন, স্বামী ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়ায় ওইদিন রাতে ছেলেকে নিয়ে একাই বাড়িতে ছিলেন। হঠাৎ কালবৈশাখীর তান্ডব শুরু হতেই উড়ে যায় আস্ত ঘর। নিজেদের জীবন বাঁচাতে চৌকির নীচে আশ্রয় নিয়েই রাত কাটিয়েছেন।

সাংসদ তথা বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, অসহায় ওই পরিবারের কথা শুনেই সেখানে এসে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন। সামান্য কিছু সহায়তাও করেছেন পরিবারটিকে। তবে অনান্য রাজনৈতিক দলের লোকেরা আসলেও প্রশাসনের দেখা মেলেনি।

যদিও জেলাশাসক আয়েষা রানী এ ও পুলিশ সুপার রাহুল দে জানিয়েছেন, রাত থেকেই তারা বিভিন্ন এলাকা ঘুরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করবার চেষ্টা করছেন। হতাহতের খবর না থাকলেও ঘরের চাল উড়ে, গাছ ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অনেকেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *