বালুরঘাটে ইলেকট্রিক পোল বোঝাই লরির চাপে হুড়মুড়িয়ে ভেঙ্গে পড়লো আস্ত ব্রিজ, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ, দ্রুত সংস্কারের দাবি বাসিন্দাদের

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ১১ ফেব্রুয়ারি: পোল বোঝাই লরির চাপে হুড়মুড়িয়ে ভেঙ্গে পড়লো আস্ত ব্রিজ। শুক্রবার সাত সকালে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে বালুরঘাটের বোয়ালদাড় গ্রাম পঞ্চায়েতের কাশিয়াডাঙা এলাকায়। ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা না থাকলেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার কৃষকরা।

জানা যায়, বোয়ালদাড়ের কাশিয়াডাঙা এলাকা দিয়ে বয়ে চলা স্থানীয় কাশিয়াখাড়ির উপর বহুকাল আগে নির্মিত হয়েছিল ওই ছোট্ট ব্রিজটি। যার উপর নির্ভর করেই স্থানীয় মানুষরা জলঘরের হাট, রাজুয়ার হাট ও পোরামাধলের হাটের সাথে যোগাযোগ করতে পারে। সপ্তাহের বিভিন্ন দিনে ওই গ্রামগুলিতে হাট বসে। এছাড়াও স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, শ্মশান সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় গ্রামবাসীদের যেতে হয় ওই রাস্তা দিয়েই। বালুরঘাট শহরের সাথে অতি সহজেই যোগাযোগ করবার জন্য একাকার ওই ব্রিজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যার উপর দিয়েই এদিন সকালে ইলেকট্রিক পোল বোঝাই একটি লরি পারাপার হচ্ছিল। সেই সময় আচমকা একটি বিকট শব্দ করে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে আস্ত ব্রিজটি। যদিও পরে পুলিশ পৌঁছে দুর্ঘটনার মুখে পড়া পোল বোঝাই লরিটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে বালুরঘাট থানায়। কিন্তু একমাত্র এই রাস্তা দিয়ে এদিন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম সমস্যায় পড়েছে এলাকার কৃষকরা। হাটের দিনে প্রায় ১২ থেকে ১৫ কিলোমিটার ঘুরপথে আসতে হচ্ছে তাদের। আর যার জেরে রাজুয়া, গোফানগর, কাশিয়াডাঙা, বাউধারা, আউসর, ভ্যারেন্ডা, কাশিপুর সহ বিভিন্ন গ্রামের সাধারণ মানুষেরাও পড়েছেন চরম সমস্যায়।

স্থানীয় গ্রামবাসী বিক্রম বর্মন, সুবোধ সরকার ও বাবলু শীলরা বলেন, এই ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল হয়ে পড়ে রয়েছে। আজ সকালে বিকট শব্দ শুনে আমরা ছুটে যাই। গিয়ে দেখি লরির অর্ধেক অংশ নিচে পড়ে গিয়েছে। চালকের আঘাত না লাগলেও সেখানকার ব্রিজটি পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়েছে। আজকে জলঘরের হাটের দিন, এই রাস্তাদিয়ে আমরা কৃষিদ্রব্য নিয়ে যেতে পারছি না। তাই দ্রুততার সাথে ব্রিজটি সংস্কার করা হোক।

বোয়ালদার গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধান গীতাঞ্জলি সরকার বর্মন বলেন, আমাদের অফিসের ইঞ্জিনিয়াররা ওই ছোট ব্রিজটি পরিদর্শন করে এসেছে। সেই ব্রিজটি যাতে দ্রুত তৈরি করা হয় তার জন্য ব্লকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আপাতত সেই পথ দিয়ে চলার বিকল্প রাস্তা তৈরি করা যায় কি না, তা দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *