লাগাতার নারী নির্যাতনের কারণ খুঁজতে সক্রিয় হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ মহিলা কমিশন

অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ৩১ মার্চ: রাজ্যে লাগাতার নারী নির্যাতনের কারণ খুঁজতে সক্রিয় হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ মহিলা কমিশন। মূলত সমাজতাত্বিক দিক এবং নারীসুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে চায় কমিশন।

রামপুরহাটের বগটুইয়ের ঘটনার জের গিয়ে পৌঁছেছে দিল্লিতে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
রামপুরহাটে হতাহতদের মধ্যে আছে কয়েকজন নারী ও শিশু। এ ছাড়াও বসিরহাটের মাটিয়া, মালদার ইরেজবাজার এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায় পৃথক তিনটি ঘটনা খতিয়ে দেখতে চায় মহিলা কমিশন।

বৃহস্পতিবার মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন তথা লেখিকা-চিত্রনাট্যকার লীনা গঙ্গোপাধ্যায় এই প্রতিবেদককে বলেন, “১৮ বছরের অনূর্দ্ধদের লাঞ্ছনার অভিযোগের ক্ষেত্রে বিষয়টি শিশুকল্যাণ কমিশন দেখে। তবে, মামলার গুরুত্ব বুঝে আমরাও যাই। শুক্রবার যাচ্ছি আরজি কর কলেজ হাসপাতালে। ওখানে মাটিয়ার নির্যাতিতার চিকিৎসা হচ্ছে। শনিবার যাচ্ছি রামপুরহাট। রবিবার ডেবরায়।“

বৃহস্পতিবার মাটিয়া এবং মালদায় ধর্ষণ কাণ্ডের রাজ্যের রিপোর্ট তলব করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। পাশাপাশি পেশ করতে হবে কেস ডায়েরিও। চারদিনের মধ্যে এই রিপোর্ট জমা করতে হবে আদালতে।

প্রসঙ্গত, ২৪ মার্চ ১১ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে বসিরহাটের মাটিয়া এলাকায়। উপহারের লোভ দেখিয়ে নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে পাশবিক অত্যাচারের অভিযোগ এক যুবকের বিরুদ্ধে। নির্যাতিতা আপাতত আরজিকর মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি। প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে তাঁর যৌনাঙ্গে অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসকরা। নির্যাতিতা সংকটজনক অবস্থায় এইচডিইউতে ভর্তি। তার চিকিৎসার স্বার্থে গঠিত হয়েছে ৫ সদস্যের মেডিক্যাল টিম। ইতিমধ্যে মূল অভিযুক্ত-সহ দু’ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এর পর ২৭ মার্চ মালদায় ইংরেজবাজার থানার শোভানগর গ্রাম পঞ্চায়েতের চন্ডিপুর এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। বাড়িতে একা থাকার সুযোগে গান পয়েন্টে রেখে দশম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে মুখ ও হাত বেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে প্রতিবেশী এক যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তকে গ্রেফতারও করা হয়।
ধর্ষিতা ওই ছাত্রীকে প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। এই দুই ঘটনায় কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হল। 

ডেবরার ঘটনাটি বৃহস্পতিবারের। স্পৃহা চক্রবর্তী (১৯) নামে এক তরুণীর মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। পরিবারের সদস্যরা দেখেন, বিছানার উপর উপুড় হয়ে পড়ে রয়েছে মেয়ে। তাঁর শরীরের হাতে ও গলায় একাধিক কালশিটে দাগ রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তরুণীদের এক নির্মীয়মান বাড়িতে কাজ করা তিনজন রাজমিস্ত্রি ও একজন কন্ট্রাক্টরকে আটক করে ডেবরা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। লীনা এই প্রতিবেদককে বলেন, “আমরা মৃতার বাড়ি যেতে চাই“।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *