দড়ি দিয়ে বাঁধা অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টারের দেওয়াল, ঝুলছে খুদেদের জীবন! ভগবানই ভরসা, বলছেন বাসিন্দারা

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ১৬ ডিসেম্বর: দড়ি দিয়ে বাঁধা অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টার, যেন হাওয়ায় দুলছে। সেখানেই জীবন হাতে নিয়ে চলছে ছোট্ট শিশুদের পঠন পাঠন। ভগবান ভরসাতেই বেঁচে রয়েছেন, বলছেন গ্রামবাসীরা।

শুনতে অবাক মনে হলেও এমনই জরাজীর্ণ অবস্থাতে বছরের পর বছর কাটছে ওই সেন্টারের ৫০ এর বেশি খুদে পড়ুয়ার। কঙ্কালসার ওই অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টার দেখে অনেকেই আঁতকে উঠেছেন। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি দক্ষিন দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর ব্লকের উদয় গ্রাম পঞ্চায়েতের জগদীশপুর এলাকার। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বারংবার এব্যাপারে প্রশাসনকে জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি। তাই ভগবান ভরসাতেই বেঁচে রয়েছে সবাই।

গঙ্গারামপুর ব্লকের উদয় গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত জগদীশপুরের ওই অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টারটি। বহু পুরোনো ওই সেন্টারে ৫০ এর বেশি খুদে পড়ুয়ার পাশাপাশি রয়েছেন একজন দিদিমণি ও একজন সহায়িকাও। বেশ কয়েকবছর ধরে ওই সেন্টারটির কোনও মেরামতি না হওয়ায় বর্তমানে ভগ্নদশাপ্রাপ্ত অবস্থায় পরিণত হয়েছে অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টারটি। যা দেখলে রীতিমতো চোখ কপালে উঠবে প্রায় সকলেরই। অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টারটির গ্রিলগুলো যেন খুলে রয়েছে, ভেঙ্গে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে পাকা ঘরের পিলার ও দেওয়ালগুলো। বাচ্চাদের নিরাপত্তার কথা ভেবে অসহায় গ্রামবাসীরা নিজেরাই অতি উৎসাহিত হয়ে ভাঙ্গা পিলার, দেওয়াল ও গ্রিলগুলো দড়ি দিয়ে বেঁধে দিয়েছেন। পাকা দেওয়াল, পিলার বা গ্রিল যে দড়ি দিয়ে বেঁধেও রক্ষা করা যায় তা ওই সেন্টারে গেলেই একমাত্র চাক্ষুষ করা যাবে। যা দেখেই অনেকে আঁতকে উঠেছেন।

কিন্তু এসবের পরেও কেন এখনও নজর পড়েনি প্রশাসনের? তার উত্তর জানা নেই গ্রামের কারোরই। জানেন না এলাকার খোদ পঞ্চায়েত প্রধানও। আর এসব মিলিয়েই ভগবান ভরসাতেই যেন বেঁচে রয়েছে গ্রামের শিশুরা।

এলাকার বাসিন্দা মঙ্গল বেসরা বলেন, বহুদিন ধরেই এই অবস্থায় পড়ে রয়েছে সেন্টারটি। গ্রিল, দেওয়াল দড়ি দিয়ে বাঁধা রয়েছে। যেকোনো সময়ই বড় দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশাসনের উচিৎ এসব দ্রুত মেরামত করার।

উদয় গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শক্তি মালী দাস জানিয়েছেন, বিষয়টি এর আগে তাকে কেউই জানায়নি। জানলে অতি দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা করতেন তিনি। তার অজানা এই বিষয়টি খুব তাড়াতাড়ি খোঁজ নিয়ে যাবতীয় পদক্ষেপ করবেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *