জে মাহাতো, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৬ এপ্রিল: রাজ্য সরকারের জনস্বাস্থ্য ও কারিগরী দপ্তর নির্মিত ২২ কোটি টাকার সজলধারা প্রকল্পের জল না পেয়ে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা প্রকল্পের গেটে তালা লাগিয়ে দিলেন। জেলা সদর থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে ধেড়ু্য়ার দেউলকুন্ডা এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। প্রকল্প সংলগ্ন চাঁইপুর, কুন্ডলবনি, সগোডিহা গ্রামগুলিতে পানীয় জল সরবরাহ না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলির প্রায় হাজারখানেক ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী শুক্রবার প্রকল্পের মেন গেটে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ দেখান। গ্রামবাসীদের অভিযোগের সঙ্গে সহমত হয়েছেন প্রকল্পের কর্মীরাও। তাঁদের মতে, পাইপ লাইন বিছানোর ক্ষেত্রে গাফিলতি রয়েছে। জনস্বাস্থ্য ও কারিগরী দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক শামিদীপ ভট্টাচার্য বললেন, “ওই কাজ চলছে। ঠিকাদারদের সাথে কথা বলে দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, মেদিনীপুর সদর ব্লকের দেউলকুন্ডা জল-সরবরাহ প্রকল্পের সবথেকে লাগোয়া গ্রাম চাঁইপুর। সেই গ্রামের প্রবীর মাইতি, নিতাই মুর্মু, অজিত মাহাতদের অভিযোগ, “এই গ্রামের উপর দিয়ে পাইপ বিছিয়ে ৮-১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গ্রামগুলিতে পানীয় জল দেওয়া হচ্ছে । কিন্তু, এই চাঁইপুর, কুন্ডলবনি, সগোডিহার গ্রামবাসীরা জলের অভাবে মরতে বসেছে। কিছু জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে শুধু জলের ট্যাপ বসিয়ে ফেলে রাখা হয়েছে। কিন্তু, জল নেই! জলই যদি না থাকে এই ট্যাপগুলো বসিয়ে কি লাভ? তাই, যতক্ষণ না সুরাহা হচ্ছে, আমরা গেটের তালা খুলবো না।” ওই প্রকল্পের এক কর্মী, তাপস বেরা বললেন, “ওনাদের দাবি যুক্তিসঙ্গত। আমাদের অনেকেরই বাড়ি এই এলাকাতেই। আমাদের বাড়িতেও জল নেই। আমাদের মেকানিক্যাল ডিপার্টমেন্টের কাজ সব ঠিক আছে অর্থাৎ মেশিনপত্র সব ঠিক আছে। পাইপলাইনের কাজ সিভিল ডিপার্টমেন্ট করে, ওখানে কিছু সমস্যার কারণে এই সব গ্রামে জল নেই।”
এ নিয়ে জেলার জনস্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মাধ্যক্ষ শ্যামপদ পাত্র বললেন, “এই মুহূর্তে নির্বাচন সংক্রান্ত বিধিনিষেধের জন্য বিভাগীয় আধিকারিকরাই সবকিছু দেখাশোনা করছেন। ওনাদের কাছে আমিও আবেদন রাখব, দ্রুত সমস্যা সমাধান করে দেওয়ার জন্য।” দ্রুত সমাধানের আশ্বাস অবশ্য দিয়েছেন বিভাগীয় আধিকারিক শামিদীপ ভট্টাচার্যও।

