মরণফাঁদ সড়কে নাকাল পরীক্ষার্থীরা, নির্বিকার প্রশাসন, বুদবুদের কসবা- সিলামপুর বেহাল রাস্তার গর্ত ভরাট করল গ্রামবাসীরা

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ৭ মার্চ: উধাও ঠিকাদার। নির্বিকার প্রশাসন। ৪ বছরেও শেষ হয়নি রাস্তার কাজ। তৈরী হয়নি কার্লভাট। আর ওই কালভাট তৈরীর ফাঁকা অংশই মরণফাঁদ। ঝুঁকি নিয়ে সাইকেল, মোটরবাইকে পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে নাকাল হল পরিক্ষার্থীরা। দুর্ঘটনা ঠেকাতে পরীক্ষার্থীদের স্বার্থে মাটি দিয়ে রাস্তার গর্ত ভরাট করলো গ্রামবাসীরা। নজিরবিহীন ঘটনাটি বুদবুদের কসবা-সিলামপুর রোডের শালডাঙা এলাকার।

১৯ নং জাতীয় সড়কের বুদবুদের তিলডাঙা মোড় থেকে কসবা হয়ে রনডিহা, সিলামপুর সড়ক প্রায় ২৫ কিলোমিটার রাস্তা। দীর্ঘদিন থেকে বেহাল দশায় রয়েছে। বছর পাঁচেক আগে বর্ধমানে প্রশাসনিক বৈঠকে এসে রাস্তাটি সংস্কারের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মতো কাজও শুরু হয়। রাস্তা দুটিতে প্রায় ৩৮ কোটি টাকা অনুমোদন হয়। কিন্তু কাজের ধরন ও গতি প্রকৃতিতে ক্ষোভে ফেটে পড়ে এলাকাবাসীরা। গত চার বছর ধরে রাস্তার কাজ শেষ না করেই উধাও নির্মাণকারী ঠিকাসংস্থা। এদিকে নির্মীয়মান রাস্তা আরও বেহাল হয়ে পড়েছে। জায়গা ছেড়েও তৈরী হয়নি কালভার্ট। প্রায় ৩৬ টি কালভার্টের জায়গা ছাড়া হয়েছে। আর তাতে গর্ত তৈরী হয়েছে। বেড়িয়ে পড়েছে পাথর। খানাখন্দে ভরে গেছে। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এক কথায় মরণফাঁদ। রাজ্য যখন ‘পথশ্রী’ স্বপ্ন দেখাচ্ছে, তখন গত চার বছরেও রাস্তার কাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা অভিযোগে জানান, “রাস্তাটির ওপর দিয়ে ১০ টি বাস যাতায়াত করে। ৪-৫ ট্রেকার যাতায়াত করে। রাস্তার ওপর ছ’টি হাইস্কুল রয়েছে। এছাড়াও একাধিক ব্যাঙ্ক অফিস রয়েছে। ২৫ টি গ্রামের একমাত্র ভরসা ওই রাস্তাটি। 

গত ৪ বছর ধরে রাস্তার কাজ শেষ হয়নি। রাস্তার বেহাল অবস্থায় নাজেহাল। বহুবার প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি।

তাছাড়াও রাস্তার ওপর পড়ে থাকা ইতস্তত পাথর গাড়ীর চাকায় লেগে বন্দুকের গুলির মত ছিটকে লাগে। নাকাল পথচলতি মানুষ। সুষ্ঠভাবে চলাচল করা মুশকিল। দুর্ঘটনা ঘটলেও টনক নড়েনি প্রশাসনের।” 

সোমবার ছিল মাধ্যমিক পরীক্ষা। ওই রাস্তার ওপর তিনটি মাধ্যমিক পরীক্ষা কেন্দ্র রয়েছে। পরীক্ষার্থীদের একমাত্র যাতায়াতের উপায় সাইকেল কিম্বা মোটরসাইকেল, টোটো গাড়ি। শালডাঙা স্কুলে সিট পড়েছে চাঁকতেতুল ও কাঁকসার সিলামপুর স্কুলের পড়ুয়াদের। সিলামপুর স্কুলের পড়ুয়াদের প্রায় ৬-৭ কিলোমিটার বেহাল ওই রাস্তার ওপর দিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেত হয়। এদিনের নিজেদের সড়ক যন্ত্রনার অভিজ্ঞতায় পড়ুয়ারা জানায়,” বাড়ি থেকে দেড় ঘন্টা আগে বেরিয়েছি। গর্তে ভরা রাস্তায় নাকাল। সাইকেলে, টোটোয় একটু বেসামাল হলেই দুর্ঘটনা নিশ্চিত। সুষ্ঠভাবে সাইকেল চালানো যাচ্ছিল না। ঘন্টাখানেকের চেষ্টায় কোনভাবে  পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছেছি।” আর প্রশ্ন এখানেই যেখানে তিনটি পরীক্ষা কেন্দ্র। সেই বেহাল রাস্তার গর্ত আগাম ভরাট হল না কেন? প্রশাসনের নিরবতায় উঠছে প্রশ্ন। যদিও রাস্তার নিম্নমানের কাজ নিয়ে অসন্তুষ্ট গ্রামবাসীরা। তার ওপর বেহাল রাস্তায় নিত্যদিন চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় গ্রামবাসীদের।  বেহাল রাস্তার জেরে বাস চলাচল করলেও ক্ষোভে ফুঁসছে বাসমালিক ও কর্মীরা।

বাস কর্মীরা জানান, “বেহাল রাস্তার দরুন প্রায় প্রতিদিনই টায়ার পাম্পচার হচ্ছে। পাতি ভেঙ্গে পড়ছে। নাজেহাল অবস্থা আমাদের। করোনাকালে এরকমই বাজার নেই। তার ওপর খরচের বহর বাড়ছে।” 

তবে সোমবার পরীক্ষার্থীদের দুর্দশা দেখে এগিয়ে আসে শালডাঙা গ্রামের বাসিন্দারা। বিপদজ্জনক কয়েকটি কালভাটের গর্ত মাটি দিয়ে ভরাট করে গ্রামবাসীরা। বামদেব পাঁজা, আসিম লাহা, বিশ্বনাথ মন্ডল প্রমুখ বাসিন্দারা জানান, “বহুবার আবেদন করা হয়েছে। রাস্তা অবরোধ, বিক্ষোভ আন্দোলন করা হয়েছে। তবুও বেহাল রাস্তা ঠিক হয়নি। প্রশাসনের তেমন কোনো সাড়া নেই। পর পর দুর্ঘটনায় আতঙ্কিত। তাই গ্রামবাসীরা সকলে একসঙ্গে দুর্ঘটনা ঠেকাতে ও পড়ুয়াদের সমস্যা যাতে না হয়, তাই কয়েকটি রাস্তার গর্ত মাটি ভরাট করা হয়েছে।”

চাকতেঁতুল গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান অশোক ভট্টাচার্য বলেন, “বিষয়টি পিডাব্লুউডি বিভাগে জানিয়েছে। পরীক্ষার সময় গর্তগুলি সাময়িক ভরাট না করলে, পঞ্চায়েত থেকে ওইসব গর্ত ভরাট করা হবে।”

যদিও এবিষয়ে পিডব্লউডি আসানসোল ডিভিশন কোনো মন্তব্য করতে চায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *