মানচিত্র থেকে মুছে গেল নানুরের সুন্দরপুর গ্রাম

আশিস মণ্ডল, বোলপুর, ২ অক্টোবর: নানুরের মানচিত্র থেকে মুছে যেতে চলেছে সুন্দরপুর নামে একটি আস্ত গ্রাম। দু’দিনের অতি বৃষ্টি এবং ঝাড়খণ্ড থেকে জল ছাড়ার ফলে অজয় নদীর বাঁধ ভেঙ্গে ধুয়ে মুছে নিয়ে গিয়েছে সুন্দর ভাবে সাজানো ওই গ্রামকে। শনিবার সকাল থেকে অসহায় মানুষ গুলো নিজেদের ভিটেমাটি খুঁজতেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু কেউ আর তাদের বাপ ঠাকুরদার মাটি খুঁজে পাননি।

দিন দুয়েক ধরে বৃষ্টির ফলে বীরভূমের অধিকাংশ নদীতে জল বাড়তে শুরু করে। বিশেষ করে অজয় নদী ফুলে ফেঁপে ওঠে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নানুর থানার সুন্দরপুর গ্রামের কাছে বাঁধ ভেঙ্গে গিয়ে গোটা গ্রাম প্লাবিত হয়। গ্রামবাসীরা বিপদের আগাম সতর্ক বার্তা পেয়ে এক কাপড়েই বাড়ির মায়ার ত্যাগ করে বাঁধে আশ্রয় নেন। রাত বাড়তেই একের পর এক বাড়ি ভাঙ্গতে শুরু করে। চোখের নিমেষে জলের তোড়ে ভেসে যায় বাড়ি, আসবাব পত্র, গবাদি পশু। শনিবার ভোরের আলো ফুটতেই জল নামতে শুরু করে। ঘর বাড়ি হীন
মানুষগুলো তাদের পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি খুঁজতে বেড়িয়ে পড়েন। কিন্তু সর্বগ্রাসী অজয়ের জল সেই ভিটেমাটিতে কোথাও পুকুর আবার কোথাও বড় নিকাশি নালা তৈরি করে দিয়েছে। গ্রামের মাটি পর্যন্ত গিলে খেয়েছে বন্যার জল। তবে এখন তিনটি মাটির এবং চারটি পাকা বাড়ি গ্রামের স্মৃতি বহন করে চলেছে। সম্পূর্ণ জল নামলে এবং রোদ উঠলে সেগুলিও নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গ্রামের বাসিন্দা কমল মাজি, চম্পা মাজি, বানু মাজিরা বলেন, “রাতের অন্ধকারে বাড়ি ছেড়ে নদী বাঁধে আশ্রয় নিয়েছি। সকালে গিয়ে নিজের ভিটে টুকুও চিনতে পারলাম না। এখন কি করব বুঝতে পারছি না। পুজোর আগে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেলাম। এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছি। সেই কাপড়েই এখনও রয়েছি”।

ত্রাণ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে গ্রামবাসীদের মধ্যে। দুর্গত মানুষরা পর্যাপ্ত ত্রাণ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ।

যদিও নানুরের বিডিও সৌভিক ঘোষাল বলেন, “আমরা সাধ্যমত ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছি। এখনও পর্যন্ত দুর্গত মানুষদের জন্য কি করা হবে তা সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি। তবে দু-একদিনের মধ্যে প্রশাসনিক বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়ে দুর্গত মানুষদের কীভাবে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেওয়া যায় তা দেখা হবে”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *