উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থার বালুরঘাট ডিপোয় কর্মীদের দেদার মদ ও জুয়ার আসরের ভিডিও ভাইরাল, ঘটনার কথা জানেনই না ডিপো ইনচার্জ!

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৩১ আগস্ট: উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার বালুরঘাট ডিপোর ভেতরে দেদার মদ ও জুয়ার আসর কর্মীদের। ভিডিও ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। ঘটনার প্রতিবাদ করায় চার প্রতিবাদীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ ডিপো ইনচার্জের। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডিপো ইনচার্জ। সরকারি অধীনস্থ এনবিএসটিসির বালুরঘাট ডিপোর ভেতরে কর্মীদের এমন ফুর্তির ভিডিও সামনে আসতেই রীতিমতো আলোড়ন পড়েছে গোটা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাতে।

বালুরঘাটের উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন দপ্তরের ডিপোর ভেতরে কর্মীদের ফুর্তির ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে কিভাবে মদ ও জুয়ার আসর বসিয়েছেন তারা। প্রকাশ্যে চলছে মদ্যপান ও অবাধে চলছে জুয়া। সরকারি অধীনস্থ ওই অফিসের ভেতরে প্রতিদিন কিভাবে রাতের অন্ধকারে কর্মীরা এমনভাবে ফুর্তি করছে তা নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন। শুধু তাই নয়, এসব সামনে আসবার পরেও এখনও কেন নিশ্চুপ রয়েছে ডিপো ইনচার্জ বা প্রশাসন? উঠেছে সেই প্রশ্নও। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখতে পাওয়া কর্মীদের বিরুদ্ধেই বা কেন এখনও কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি কর্তৃপক্ষ? উঠেছে সেই প্রশ্নও। উলটে এই ঘটনার প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধেই কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হল? সেই প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছেন অনেকেই।

এদিকে এই ঘটনা জানিয়ে ইতিমধ্যে জেলাশাসককে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন এনবিএসটিসির অস্থায়ী কর্মী উৎপল সরকার। তার অভিযোগ, সরকারি বাসে কন্ডাকটর হিসাবে ২০১৫ সাল থেকে সুনাম নিয়ে কাজ করে আসছিলেন তিনি। বিভিন্ন রুটে কাজ করার সুবাদে বরাবরই অনান্যদের থেকে বেশি আয় করিয়ে দিয়েছেন সংস্থাকে। এই ঘটনা সামনে আসবার পর আচমকা কোনো কারণ না দেখিয়ে তাকে কন্ডাকটর থেকে বসিয়ে অন্য কাজ দেওয়া হয়েছে। যদিও তার এই যুক্তি মানতে চাননি ডিপো ইনচার্জ।

এদিকে এই ভিডিও সামনে আসতেই এনবিএসটিসির কর্মীদের অনেক ক্ষেত্রেই গোপন আঁতাতের বিষয় সামনে আসছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হিসাবে কলকাতা রুটে আচমকা বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া, লাভের অঙ্ক বেড়ে চলা এমন অনেক রুটেই আচমকা গাড়ি বন্ধ করে রাখা সহ একাধিক বিষয় সামনে এসেছে। যাকে ঘিরে রীতিমতো আলোড়ন পড়েছে গোটা দক্ষিণ দিনাজপুরে।

উৎপল সরকার নামে ওই সংস্থার এক কর্মী তথা অভিযোগকারী বলেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিও সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না। তবে আচমকা তাকে কন্ডাকটর থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে অবাক হয়েছেন তিনি। দীর্ঘ সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে সংস্থার আয় অনান্য কন্ডাকটরের থেকে বেশি করে দেবার পরেও কেন তাকে সেখান থেকে সরানো হল সেই প্রশ্নের উত্তর তিনি পাননি। সঠিক বিচারের আশায় জেলাশাসককে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার বালুরঘাট ডিপো ইনচার্জ প্রশান্ত সরকার জানিয়েছেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিওর ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না।

উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের বোর্ড অফ চেয়ারম্যানের সদস্য তথা বিধায়ক তোরাফ হোসেন মন্ডল বলেন, ভাইরাল ভিডিও সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *