বন্ধ এক’শ দিনের কাজ, বুদবুদ বাজারে ভ্যাট সাফাই করলেন সহ সভাপতি

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১৫ অক্টোবর: প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ এক’শ দিনের কাজ। আর তার জেরে মুখ থুবড়ে পড়েছে বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকায় পুকুর, জলাশয় সংস্কার থেকে রাস্তাঘাট, নিকাশীনালা সাফাইয়ের কাজ। আর তাতে নোংরা আবর্জনার জঞ্জালের পাহাড় জমেছে। দুর্গন্ধে অতিষ্ট মানুষ। ছড়াচ্ছে মশা, মাছি বাহিত নানান রোগ। উৎসবের মরশুমে ক্রমবর্ধমান ডেঙ্গু সংক্রমন। আর তাই ডেঙ্গু সংক্রমন রুখতে বাজারের জমে থাকা ভ্যাটের জঞ্জাল সাফাইয়ের কাজে হাত লাগালেন খোদ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি। এমনই নজিরবীহিন ছবি ধরা পড়ল গলসী-১ নং ব্লকের বুদবুদ বাজারে।

প্রসঙ্গত, বুদবুদ বাজার বহু পুরোনো ও ঐতিহ্য বাহী। একটা সময় মহকুমা সদর ছিল বুদবুদ। বাইপাস হওয়ার পর পুরোনো জিটি রোডে যানবাহনের চাপ অনেকটাই কমেছে। তবে বাজারের নোংরা আবর্জনা যত্রতত্র পড়ে থাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ হয়ে উঠেছে। গোটা বুদবুদ বাজারে১০০ টি ডাস্টবিন বসানো রয়েছে। বুদবুদ বাজার, মানকর রোড, অ্যামুনিশেন রোড সহ সব জায়গায় বসানো হয়েছে ডাস্টবিন। প্রতিদিন নিয়ম করে সাফাই করার কাজের জন্য নোংরা ফেলার গাড়ির ব্যাবস্থা আছে। ভর্তি হওয়া ডাস্টবিনের নোংরা ডাম্পিং গ্রউন্ডে ফেলার জন্য দুটো গাড়ির সঙ্গে দুজন লোকও আছে। মাসপাঁচেক সবই ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু তারপর আচমকাই মুখ থুবড়ে পড়ে সাফাই কাজ।

ডাস্টবিন থেকে উপচে পড়ছে নোংরা জঞ্জাল। রাস্তার ওপর ছড়িয়ে পড়ছে আবর্জনা। নোংরা জঞ্জাল ভর্তি ওইসব ডাস্টবিন মশা মাছির আতুঁড় ঘরে পরিনত হয়েছে। আর তাতেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে সাধারন মানুষ। জমা জঞ্জালের দুর্গন্ধে অতিষ্ট এলাকাবাসী। তার ওপর বাজারের নিকাশীনালা মজে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে ব্যাবসায়ীরা।

পঞ্চায়েতের অভিযোগ, এক’শ দিনের কাজ বন্ধ থাকায় লাটে উঠেছে নিকাশী সাফাই। আর তাতেই সামন্য বৃষ্টিতে নিকাশীর নোংরা জল উপচে পড়ছে দোকান বাজারে। গত কয়েকদিন ধরে বুদবুদ, পানাগড়,কাঁকসায় লাফিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গু সংক্রমন। এমনকি কাঁকসায় এক ডেঙ্গু আক্রান্ত স্কুল ছাত্রীর মৃত্যু হয়। তারপরই নড়ে চড়ে বসে পুর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসন।

শনিবার সকালে গলসী-১ পঞ্চায়েত সমিতির উদ্যোগে বুদবুদ বাজারে ডাস্টবিন সাফাই কাজ শুরু হয়। বুদবুদের মানকর রোড জনবহুল সড়কের ট্যাক্সি স্ট্যান্ডের কাছে জমা ডাস্টবিন সাফাই শুরু হয়। আর তাতে সাফাইকর্মীদের সঙ্গে হাত লাগান গলসী-১ নং পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি অনুপ চ্যাটার্জি। সাত সকালে মুখে মাস্ক পরে হাতে তুলে নেন কোদাল, ধামা। দুর্গন্ধের মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নোংরা জঞ্জাল জড়ো করে ধামায় ভর্তি করেন। তারপর আবার ওই আবর্জনা ভর্তি ধামা সাফাই কর্মীদের সঙ্গে ট্রাক্টারে তুলে দেন। বাজারের সাধারন মানুষ থেকে ব্যবসায়ীরা সাধুবাদ জানায়।

সাফাইয়ের মাঝে অনুপ চ্যাটার্জী জানান, “প্রায় বছর ধরে কেন্দ্র সরকার ১০০ দিনের কাজের অনুদান বন্ধ করে দিয়েছে। ওই কাজে নিকাশী ও জঞ্জাল পরিস্কার করা হত। ফলে সেসব থমকে পড়েছে। আলাদা করে এসব পরিস্কারের জন্য টাকা নেই। আর্থিক সঙ্কট রয়েছে। উৎসবের মরশুমে পরিবেশ পরিস্কার রাখতে, পরিবেশকে দুষনমুক্ত রাখতে, ডেঙ্গু সংক্রামক রুখতে সাফাই অভিযান। তাই সাফাইকর্মীদের উদ্বুদ্ধ করতে আমি হাত লাগিয়েছি।”

তিনি আরও বলেন,” মশা-মাছিবাহিত রোগ থেকে বাঁচতে সাধারন মানুষের কাছে আবেদন প্ল্যাস্টিক ব্যাবহার বর্জন করুন। নিজের এলাকা নিজেরা পরিস্কার রাখুন।” 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *