কথা দিয়েও রাজভবনে এলেন না উপাচার্যরা, ফের তাঁদের বৈঠকে ডাকলেন রাজ্যপাল

আমাদের ভারত, ২০ ডিসেম্বর: রাজ্যের বেসরকারি ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে সোমবার রাজভবনে বৈঠকে ডেকেছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। রাজ্যপালের সেই বৈঠক এড়ালেন উপাচার্যরা।

রাজ্যের ১১টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের রাজভবনে বৈঠকের জন্য ডেকেছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। সেই বৈঠকে হাজির থাকতে পারবেন না বলেই রাজ্যপালকে জানিয়ে দিয়েছেন ১১ জন উপাচার্য। এর ফলে ফের একবার ‘ব্যথিত’ ও ‘অপমানিত’ বোধ করেছেন তিনি।

তৃণমূলের অভিযোগ, বার বার নিজের পদের গরিমা ভুলে রাজ্যের বিরুদ্ধে গিয়ে কাজ করেছেন রাজ্যপাল। কখনও রাজ্য সরকারের নানা প্রকল্প নিয়ে, আবার কখনও পুলিশ-প্রশাসন নিয়ে বারবার টুইট করেই নিজের ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন।

রাজভবন থেকে বিরক্তি-সহ লিখিত বার্তায় উপাচার্যদের জানানো হয়েছে, “উল্লিখিত সভায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পর, সভার দিনে এই ধরনের মনোভাব ইউনিয়নবাদের ইঙ্গিত দেয়। এটা সম্পূর্ণরূপে অবিশ্বাস্য। বৈঠকে অংশ না নেওয়ার প্রেক্ষিতে ইঙ্গিত করা হয়েছে ভিজিটরের দ্বারা নির্ধারিত বৈঠক সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত এবং অগ্রহণযোগ্য। রাজভবনের সমস্ত অনুষ্ঠান করোনা প্রোটোকল এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার শর্তাবলী সম্পূর্ণভাবে মেনে চলে।

শাসনে কর্তৃত্ববাদের জন্য রাজ্যে ব্যাপকভাবে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পরিদর্শক হিসাবে বিধিবদ্ধ বিধানগুলি মেনে চলার ক্ষেত্রে, রাজ্যের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির বিভিন্ন দিক অস্বচ্ছল বলে দেখেছি। নির্ধারিত সভার উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার পরিবেশ যাতে দেখা যায় তা নিশ্চিত করা।”

আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মানিত এবং পবিত্র দায়িত্বে আছেন। তার সম্মানে, রাজ্যপাল এবং আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিদর্শক নির্দেশ দিয়েছেন যে সভাটি এখন কলকাতার রাজভবনে আগামী ২৩ ডিসেম্বর, বিকাল ৩ টায় অনুষ্ঠিত হবে এবং ওই সভায় আপনার উপস্থিতি প্রত্যাশিত।

রাজ্যের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাজ্যপাল। ২০১৯-এর ৪ ডিসেম্বর পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন জগদীপ ধনকর। কিন্তু উপাচার্য সহ কোনও পদাধিকারী ছিলেন না তাঁকে স্বাগত জানানোর জন্য। এমনকী উপাচার্য সোনালী চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরও বন্ধ ছিল। এর পর লাইব্রেরিতে যান রাজ্যপাল। কিন্তু সেখানে দেখা মেলেনি লাইব্রেরিয়ানের। উপস্থিত গণমাধ্যমের কাছে রাজ্যপাল আক্ষেপ প্রকাশ করেন, রাজ্য সরকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে রিমোট কন্ট্রোল করতে চাইছে। এরকম ঘটনা তারই নিদর্শন। তবে রাজ্যে পঠনপাঠনে সুস্থ পরিবেশ তৈরী করার জন্য তিনি সচেষ্ট থাকবেন। এর পর ২০২০-র ১৩ জানুয়ারি রাজভবনে রাজ্যপালের ডাকা বৈঠকেও যাননি রাজ্যের কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। ওই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাজভবন থেকে চিঠি গিয়েছিল রাজ্যের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পৌঁছননি কেউই। আচার্যের তলবে উপাচার্যরা না পৌঁছনোয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক অচালাবস্থা জটিল হয়েছিল বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এবার বেসরকারি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে ডেকেছিলেন রাজ্যপাল। এখন, পরিমার্জিত সূচি অনুযায়ী আগামী বৃহস্পতিবার বেসরকারি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রাজভবনে যান কি না, সেটাই দেখার।

প্রসঙ্গত, সোমবার ভিন্ন বিষয়ে রাজ্যের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন রাজ্যপাল। তিনি রাজ্যের পেগাসাস নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট তলব করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *