নতুন সংসদ ভবনে স্থাপিত অশোক স্তম্ভ নিয়ে সব বিতর্কের জবাব দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী

আমাদের ভারত, ১৩ জুলাই:
সোমবার নতুন সংসদ ভবনের ছাদে ৬.৫ মিটার দীর্ঘ একটি বিরাট আকারের ব্রোঞ্জের তৈরি অশোক স্তম্ভের উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ভাস্কর্যটি নির্মাণের উপাদান, নকশা, এমনকি নির্মাণ পদ্ধতি অনুযায়ী এটিকে অনন্য বললে ভুল হবে না।কিন্তু এই ভাস্কর্যটি ঘিরে বিতর্ক তৈরি করেছে বিরোধীরা। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় নগর উন্নয়নমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি সেই সব বিতর্কের জবাব দিলেন। তিনি বলেন, সারনাথের প্রতীক এবং সংসদের নয়া ভবনের প্রতীকের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দাবি, সারনাথের মূল অশোক স্তম্ভ এবং সংসদ ভবনের ছাদে যেটি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে দুটির মধ্যে আকারের পার্থক্য ছাড়া আর কোনও তফাৎ নেই। তাঁর দাবি, দুটি অশোক স্তম্ভের মধ্যে অনুপাত ও দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য রয়েছে বলেই দুটি ভাস্কর্য আলাদা বলে মনে করছেন অনেকে। তাঁর অভিযোগ, এই বিষয়টি নিয়ে অযাচিত বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, “বলা হয় সৌন্দর্য নির্ভর করে দর্শকের চোখের উপর– শান্ত এবং সিংহ রাগান্বিত হওয়ার বিতর্কের ক্ষেত্রেও এটা সত্যি।”

সংসদ ভবনের ছাদে স্থাপিত অশোক স্তম্ভের সিংহগুলি রাগান্বিত ভঙ্গিমায় আছে বলে অনেকে দাবি করেছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দাবি, দুটি ভাস্কর্যের মধ্যে পরিমাপের তফাৎ রয়েছে বলেও দুটি প্রতীককে আলাদা মনে হচ্ছে অনেকের। সারনাথের অশোক স্তম্ভটি ১.৬ মিটার দীর্ঘ। সেখানে নয়া সংসদ ভবনের উপরে স্থাপিত স্থম্ভটি ৬.৫ মিটার দীর্ঘ। মূল স্তম্ভটির হুবহু প্রতিরূপ যদি নতুন সংসদ ভবনের উপস্থাপন করা হতো তাহলে কেউই নিচে থেকে সেটি দেখতে পেতেন না। এই কারণেই বিশালাকায় জাতীয় প্রতীককে তৈরি করা হয়েছে। এই কারণেই কেউ কেউ মনে করছেন সংসদ ভবনে স্থাপিত ভারতীয় প্রতীকটি সিংহগুলির ভঙ্গিমা সারনাথের অশোক স্তম্ভের থেকে আলাদা।

তিনি আরোও দাবি করেছেন, আকারের পাশাপাশি দর্শকরা কোন অবস্থান থেকে ভাস্কর্য দুটি দেখছেন তাও গুরুত্বপূর্ণ। সারনাথের স্থাপিত স্তম্ভটি মাটিতে রয়েছে অর্থাৎ দর্শকরা যে ভাস্কর্যটি দেখেন একেবারে চোখের সোজাসোজি স্তর থেকে। অন্যদিকে নতুন প্রতিকৃতি স্থাপন করা হয়েছে মাটি থেকে ৩৩ মিটার উঁচুতে। অর্থাৎ যারা দেখছে তারা নিচে থেকে দেখছে। সেই কারণেই এই ভাস্কর্যের সিংহগুলিকে রাগান্বিত ও অন্য ভাস্কর্যের সিংহগুলিকে শান্ত বলে মনে হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দাবি করেছেন, কেউ যদি নিচে থেকে সারনাথের প্রতীকটি দেখেন তবে ওই প্রতীকের সিংহগুলিকেও রাগান্বিত বলেই মনে হবে।

হরদীপ সিং পুরি বলেন, দুটি কাঠামোর তুলনা করার সময় কোন কোন উচ্চতা থেকে দেখা হচ্ছে এবং দুটির আকার এর প্রভাব মাথায় রাখা দরকার। সারনাথের প্রতীকটিকে আকারে বাড়ানো হলে বা সংসদের নয়া ভবনের প্রতীকটিকেও আকারে ছোট করে দিলে দুটির মধ্যে কোনও পার্থক্য থাকবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *