সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১৯ আগস্ট: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য থেকে সরলেন না কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা ড: সুভাষ সরকার। আজ দলীয় ‘শহিদ সম্মান যাত্রা’ কর্মসূচিতে পুরুলিয়ায় এসে সংবাদ মাধ্যমকে তিনি পরিষ্কার বলেন, “যে প্রসঙ্গে এবং যে বিষয় বস্তু নিয়ে আমি এই মহাপুরুষের সম্পর্কে যা কথা বলেছি তা ঠিকই বলেছি।” তিনি আরও বলেন, যে তাঁর বক্তব্য সবটা শুনলে বিষয়টি নিয়ে অযথা বিতর্ক হবে না বলে বিশ্বাস।”
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতি নিয়ে বিশ্বভারতীয় এক অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুভাষ সরকার সেখানে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পর্কে তিনি বলেন, “…তাঁর বাড়িতে সকলের চেহারাগুলি যদি দেখা যায়, সকলের গায়ের রং ধবধবে ফর্সা ছিল। তাঁর মা এবং বাড়ির অনেকেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কালো বলে কোলে নিতেন না।” আর এই বক্তব্য নিয়েই বিতর্ক দেখা দেয়।

এদিন ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে করা মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের পাঁচ বিচারপতির রায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ভারতীয় জনতা পার্টি শুধু খুশি এমনটা বলব না। এর সঙ্গে সমস্ত মানুষজন খুশি। হাইকোর্টের এই রায় যথার্থ এবং আরও বলব রাজ্য সরকারের সেটা মেনে কাজ করা উচিত।”
অন্যদিকে, আফগানিস্তানে তালিবানি দখল প্রসঙ্গে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের বক্তব্যকেই কার্যত সমর্থন করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ড: সুভাষ সরকার। তিনি বলেন, “দেশের অসময়ে মোদীজিই সহায় হয়েছেন। দুটি বিশেষ বিমানে ভারতীয়দের আফগানিস্তান থেকে এনেছেন তিনিই।”

ত্রিপুরায় তৃণমূল নেতাদের আক্রান্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নিজেরাই নিজেদের লোক দিয়ে গাড়ির কাঁচ ভাঙিয়ে নাটক করে তার জন্যে কেউ দায়ী নয়। ওই রাজ্যে এই রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে পাইলট কার দেওয়া হয়েছে। বুলেট প্রুফ গাড়ি দেওয়া হয়েছিল। আর এখানে অন্য রাজ্যের মন্ত্রী এলে নূন্যতম সুরক্ষা ব্যবস্থা করা হয় না।”
এদিন সুভাষবাবু ওই কর্মসূচিতে রঘুনাথপুর, পুরুলিয়া এবং বলরামপুরে যোগ দেন। সেখানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন বঙ্গ বিজেপির সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, জেলা সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী সহ দলের ৬ জন বিধায়ক ও অন্যান্য নেতৃত্ব। পরে ঝাড়গ্রাম যান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

