রাতে পড়ছে ইট, আসছে অশালীন হুমকি, কাঁকসায় অত্যাচারিত গ্রামবাসীদের পাশে তৃণমূলের কর্মাধ্যক্ষ

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ৬ মে: নির্বাচনের ফলাফল ঘোষনা হতেই জেলায় জেলায় অত্যাচারের শিকার বিজেপিকর্মী সমর্থকরা। আতঙ্কে পুরুষ শূন্য একাধিক পরিবার। আর সেই সুযোগে তৃণমূলের নাম ভাঙিয়ে ক্রমাগত চলছে আক্রমন। কখনও ইট বৃষ্টিবৃষ্টি, কখনও তোলাবাজি, আবার কখনও অশালীন প্রস্তাব। আতঙ্কিত ওইসব পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন এলাকার তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃতীয়বারের জন্য শপথ নেওয়ার দিনই অত্যাচারিতদের সঙ্গে নিয়ে সটান থানায় পৌঁছলেন তিনি। গ্রামবাসীরা সম্মিলিতভাবে গণঅভিযোগ দায়ের করলেন পুলিশে। নজিরবীহিন ঘটনাটি ঘটেছে কাঁকসা ৩ নং কলোনী এলাকায়।

 প্রসঙ্গত, বুধবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃতীয়বারের জন্য শপথ নেন। শপথ নিয়েই হিংসা বন্ধের বার্তা দেন তিনি। আর তারপরই তৎপর হন কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূলের কর্মাধ্যক্ষ (বিদ্যুৎ) অজয় মজুমদার। গত তিন ধরে কাঁকসা ৩ নম্বর কলোনীতে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের ওপর ক্রমাগত অত্যাচার চলছেে বলে অভিযোগ। এলাকাটি উদ্বাস্তু কলোনির বেশিরভাগই মানুষ মতুয়া সম্প্রদায়ের। গোটা পাড়া জুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ।  

অভিযোগ, তৃণমূলের  নাম ভাঙিয়ে স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতী, সমাজবিরোধী অত্যাচার শুরু করেছে। কখনও ইট, পাথর বাড়িতে ফেলছে, কখনও বাড়ি ভাঙ্গচুর, কখনও মোটা টাকা তোলা চাইছে, আবার কখনও অশালীন প্রস্তাবে ঘুম ছুটছে এলাকার মহিলাদের। গত তিনদিন ধরে তাঁরা চোখের পাতা এক করতে পারেননি অত্যাচারে। বুধবার থানায় আসা অত্যাচারিত মহিলারা একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন। 

অভিযোগ, একটি ওষুধের দোকান গত তিন দিন ধরে বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। সাংবাদিকরা যাওয়ার পর পাড়ার মহিলারা ওষুধের দোকান খুলে দেয়। মহিলাদের প্রশ্ন, কি অন্যায় করেছি যে আমাদের ওপর এরকম অত্যাচার হচ্ছে? মহিলারা জানান, “নির্বাচনের আগে মমতাদিদি মহিলাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তারপর তাঁর দলের নাম করে কিছু সমাজবিরোধীদের আক্রমণ, অত্যাচার চালাচ্ছে। তাই সমস্ত মহিলারা আজ অভিযোগ জানাতে থানায় এসেছি।”  

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে কান্না ভেজা গলায় অনুরোধ করে মহিলারা জানান, “এই অত্যাচার বন্ধ হোক। সুবিচার চাই।” ওইসব অত্যাচারিতাদের পাশে দাঁড়িয়ে কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূলের কর্মাধ্যক্ষ (বিদ্যুৎ ) অজয় মজুমদার বলেন, “এক শ্রেণির সমাজবিরোধী দলের নাম ভাঙিয়ে এধরনের কার্যকলাপ করেছে। দলকে কালিমালিপ্ত করছে। এরা সুযোগ সন্ধানী। দল এধরনের হিংসাত্মক কার্যকলাপের বিরোধী। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে এলাকাবাসীর পাশে দাঁড়িয়েছি। থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে। পুলিশকে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।” তৃণমূলের কাঁকসা ব্লক সভাপতি দেবদাস বক্সী  বলেন, “দলের নাম ভাঙিয়ে যারা এরকম করছে তাঁদের রেয়াত করা হবে না। প্রশাসনকে বলা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে।” অভিযোগ পেয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *