জে মাহাতো, মেদিনীপুর, ১১ ফেব্রুয়ারি:
নেতাদের কথা না শুনলে নির্বাচিত পঞ্চায়েত প্রধান এবং সরকারি আধিকারিককে যেখানে মারধর করে অফিস থেকে ঘাড় ধরে তুলে নিয়ে যাওয়ার নজির আছে সেই সবংয়ে এবার পঞ্চায়েত অফিসে তালা লাগিয়ে কর্মীদের এবং প্ৰয়োজনে আসা স্থানীয় নাগরিকদের হেনস্থার অভিযোগ উঠল শাসকদলের এক নেতার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ ওই নেতার পছন্দসই তালিকা মত সরকারি রেশন বণ্টনে নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্যরা অস্বীকার করায় কর্মী ও উপভোক্তাদের অফিস থেকে বের করে দিলেন তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি। ঘটনাটি ঘটেছে সবংয়ের বলপাই গ্রাম পঞ্চায়েতে।
অভিযোগ, বলপাই অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতি মানিক মাইতি এবং তাঁর কয়েকজন অনুগামী গ্রামপঞ্চায়েত অফিসে ঢুকে কর্মীদের বাইরে বের করে তালা লাগিয়ে দেন। এরপর পঞ্চায়েত অফিসের সামনে অঞ্চল সভাপতি এবং তাঁর অনুগামীদের দেখা যায় কথা না শুনলে ধোলাই হবে, পেটাই হবে শ্লোগান দিতে। পাশাপাশি তৃণমূলের আধুনিক শ্লোগান ‘খেলা হবে’ বলেও গলাবাজি করতে দেখা যায় তাঁদের।
অভিযোগ, সম্প্রতি জেনারেল রিলিফে দারিদ্রসীমার নীচে বসবাসকারীদের গম দেওয়ার জন্য কিছু বরাদ্দ এসেছে।
গ্রাম পঞ্চায়েতের পানপাড়া সংসদ সদস্য গৌরহরি বেরা জানিয়েছেন, ‘সরকারের এই সুবিধা প্রতিটি সংসদে বন্টন করার জন্য মঙ্গলবার নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্যদের একটি সভা ডাকা হয়। নির্বাচিত সদস্যরা তাঁদের নিজ নিজ এলাকার কারা কারা এই সুবিধা পেতে পারেন তার তালিকা দেন। কিন্তু নির্বাচিত সংসদ সদস্য না হওয়া স্বত্ত্বেও মানিক মাইতি ওই সভায় হাজির ছিলেন। তাঁর স্ত্রী গীতারানী মাইতি নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্য হওয়ায় তিনি নিজের পছন্দ মত একটি তালিকা দেন। পঞ্চায়েত সদস্যরা আলোচনার পর সেই তালিকা বাতিল করেন।”
গৌরহরি বেরা বলেন, “কেন তাঁর তালিকা বাতিল করা হল এই নিয়ে তিনি তাঁর দলবল নিয়ে এসে পঞ্চায়েত অফিসে তালা লাগিয়ে দেন। এরফলে পরিষেবা নিতে আসা গ্রামবাসীরা যথেষ্ট অসুবিধায় পড়েছেন। নির্বাচনের সামনে, মানুষ পরিষেবা না পেলে দলেরই তো বিপদ। তাছাড়া মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, প্রকৃত ব্যক্তিকেই এই সুযোগ দিতে হবে। কারও ব্যক্তিগত ইচ্ছা অনিচ্ছা এখানে কাজ করে না। পঞ্চায়েত সদস্যরা সবাই মিলে যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেটাই গ্রাহ্য করা হবে।”
মানিক মাইতি অবশ্য ঘটনা অস্বীকার করে গোটা দায় চাপিয়েছেন ‘বিক্ষুব্ধ’ জনতার ঘাড়ে। মানিক মাইতি বলেন, ‘এখানকার পঞ্চায়েত প্রধান প্রতিমা প্রামানিক সম্প্রতি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন আর তার পরেই সমস্ত সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বিজেপি সমর্থক ও কর্মীদের। সাধারণ মানুষ ১০০ দিনের কাজ থেকে শুরু করে, জিআর, সার্টিফিকেট পান না। প্রধান অর্ধেকদিন অফিসেই আসেন না। পরিষেবা না পেয়েই বঞ্চিত মানুষরা তালা লাগিয়ে দিয়েছেন।

