সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ১ মার্চ: দুর্নীতির অভিযোগে বিজেপি পরিচালিত বাগদা সিন্দ্রানী গ্রামপঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনলেন তৃণমূল। সোমবার এ সংক্রান্ত চিঠি তারা বিডিও’র কাছে জমা দিয়েছেন। ওই পঞ্চায়েতের ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে মোট ২৬ আসনের মধ্যে ১৩ আসনে জয়ী হয় বিজেপি, দুটি আসনে নির্দল ও তৃণমূল কংগ্রেস পায় ১১টি আসন। বিজেপির ১৩টি ও নির্দলের ২টি আসন নিয়ে পঞ্চায়েত গঠন করে বিজেপি। প্রধান হন লতিকা মন্ডল।
২০১৯ সালের ৩ জন বিজেপি সদস্য বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছে। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ হারায় বিজেপি। সোমবার তৃণমূলের অনাস্থা প্রস্তাবে ১৪ জন পঞ্চায়েত সদস্য স্বাক্ষর করেন। ১৪ জন পঞ্চায়েত সদস্যের স্বাক্ষর করা অনাস্থা প্রস্তাব বাগদার বিডিও’র রিসিভিং সেকশনে জমা দেয় তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যরা। যদিও এই অনাস্থা প্রস্তাব জমা প্রসঙ্গে মুখ খুলতে চাননি বাগদার বিডিও ডাঃ সৌমেন্দু গাঙ্গুলি।

তৃণমূল সদস্য মিহির বিশ্বাস জানিয়েছেন, তাঁরা দুর্নীতিমুক্ত পঞ্চায়েতের লক্ষ্যে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছেন। অভিযোগ, “পঞ্চায়েতে টেন্ডার প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে প্রধানের দুর্নীতি রয়েছে। ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে অবৈধ ভাবে টাকা নয়ছয় হচ্ছে। দলের তহবিলের নামে বিভিন্ন জায়গা থেকে হুমকি দিয়ে টাকা তোলা হচ্ছে প্রধানের মদতে।”
অন্যদিকে প্রধানের দাবি, “দলের একাংশের নানা অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করায় চক্রান্ত করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছে। সে কারণেই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিচ্ছে বিজেপি সদস্য ও নির্দলের সদস্যরা।

এই বিষয়ে বিজেপি বনগাঁ সংগঠিক জেলার সাধারণ সম্পাদক দেবদাস মন্ডল বলেন, এখন নির্বাচন কমিশনের আওতায় আছে চিঠি করতেই পারেন। ডিএমের কাছে যাবে ডিএম ভাববেন। তৃণমূলের কাজই হচ্ছে অকাজ করা। বিজেপি পরিচালিত পঞ্চায়েত থেকে মানুষ পরিষেবা পাচ্ছে, তৃণমূল কাটমানি পাচ্ছে না বলেই অনাস্থা এনেছেন।

