রাজেন রায়, কলকাতা, ২৩ মার্চ: এতদিন এই খেলা খেলে এসেছে তৃণমূল। একের পর এক সাংসদ বিধায়ক পুরসভার সদস্যদের নিজেদের দলে টেনে দখল করেছে বিধানসভা আসন, পৌরসভা থেকে পঞ্চায়েত। এবার তৃণমূলের অস্ত্রে তাদের বধ করতে চলেছে বিজেপি। সেই ঘটনাকে উল্লেখ করেই এবার ক্ষোভ উগরে দিলেন তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়।
কাঁথির বর্ষীয়ান সাংসদ শিশির অধিকারীর সদস্যপদ বাতিলের দাবিতে এ বার লোকসভায় স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলবদলের আগে তৃণমূলের প্রতীকে সাংসদ হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে পদত্যাগ না করে শিবির বদল করছেন সাংসদ? মঙ্গলবার ঠিক এই প্রশ্নটাই তোলেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। প্রসঙ্গত, এর আগে বর্ধমান পূর্বের সাংসদ সুনীল মণ্ডলের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ তুলেছিল তৃণমূল।
এর আগে বিধানসভা ভোটে সিপিএম এবং কংগ্রেসের একাধিক বিধায়ককে নিজেদের দলে যোগদান করালেও সরকারিভাবে বিধানসভায় ইস্তফা দিতে দেয়নি তৃণমূল। সরকারিভাবে ইস্তফা দিলে দলত্যাগ বিরোধী আইনে খারিজ হতে পারে সংসদ থেকে বিধায়ক পদ। উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে তবেই বিধায়ক পদ প্রাপ্তি সম্ভব। এই জটিলতা এড়িয়ে সিপিএম থেকে কংগ্রেসের বিধায়ক যোগদান করেছেন। এবার সুনীল মন্ডল শিশির অধিকারীর মত সাংসদদের একই পদ্ধতিতে নিজেদের দলে টেনে নিয়েছে বিজেপি।
এই প্রসঙ্গে এক সাংবাদিক বৈঠকে এদিন পার্থবাবু বলেন, “যাঁরা যাচ্ছেন তাঁরা যাবেন। আমরা চেষ্টা করলাম। এত বছর ক্ষমতা ভোগ করার পর আপনারা ঠিক নির্বাচনের সময় চলে যাচ্ছেন। কিন্তু, সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করছেন না কেন? এত ভয় কীসের?” সুনীল মণ্ডলের উদাহরণ টেনে তিনি আরও বলেন, “শুনছি ওঁর ছেলেও যাবেন। যেখানে খুশি সেখানে যান, সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করে যান।”তৃণমূল সূত্রে খবর, শীঘ্রই এই বিষয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দেওয়া হবে। সুনীল মণ্ডলের সদস্যপদ বাতিলের দাবি তুলে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “এক দলের সাংসদ থেকে আরেক দলের মঞ্চে বক্তৃতা দেব, এটা হবে না।”

