সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১ মে: জেলা তথা রাজ্যে ফলাফল যাই হোক না কেন আগামী দিনে নিজেদের সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএম। পুরুলিয়ায় অন্তত এমনই পরিকল্পনার কথা জানালেন তিন দলেরই দায়িত্বপ্রাপ্ত সংগঠকরা। সংগঠন শক্তিশালী এবং দলীয় পরিকল্পনা সঠিক ভাবে রূপায়ণের ফলেই যে সাফল্য আসে এটা এক প্রকার মেনে নিয়েছেন সাংগঠনিক পদাধিকারীরা।
তৃণমূল জেলা সভাপতি গুরুপদ টুডু ফলাফলের আগের দিন জানান, “জেলায় সংগঠন আমূল বদলে ঢেলে সাজানো হবে। যোগ্য ব্যক্তিরা সন্মানের সঙ্গে মর্যাদা পাবেন এবং দল চালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাবেন।”
ভোটের মুহূর্তে সংগঠন কি তাহলে শক্তিশালী ছিল না? এই প্রশ্নের উত্তরে তৃণমূল জেলা সভাপতি বলেন,
“একটা পরীক্ষার পর ফাঁক ফোকর অনেকটা জানা যায়। এই ক্ষেত্রেও ভোটের সময় এবং ফলাফল তারই জানান দিচ্ছে। শাসন ক্ষমতায় থেকে সংগঠন আরও মজবুত দরকার ছিল। ভোটের সময় কিছু নেতা নেত্রী এবং পদাধিকারীর আচরণ সন্দেহজনক ছিল। কেউ কেউ নিজেকে দলের দায়িত্ব থেকে গুটিয়ে রেখেছিলেন। কেউ আবার আড়াল থেকে অন্য দলের হয়ে কাজ করেছেন। এই সব দলীয় নেতাদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দলের ফলাফলে আগাম উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন বিজেপি জেলা সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী। ভোট পরবর্তী সংগঠনের পরিবর্তন সম্পর্কে অবশ্য অন্ধকারে রয়েছেন তিনি। তিনি অবশ্য বলেন, “সংগঠনই আমাদের ভিত্তি। কাজেই দলীয় নির্দেশ অনুসারে পরিকল্পনা রূপায়ণের জন্য সব সময় ঝাঁপিয়ে পড়েছি। এবারও অন্যথা হবে না। ” তবে তিনি প্রকারান্তরে জানিয়ে দেন যে সাংগঠনিক পরিবর্তন হচ্ছে। নতুন মুখ তুলে আনা হচ্ছে। আগামীর জন্য নবীন প্রজন্মই এই ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে।
সিপিএম সাংগঠনিক দল। সংগঠনের উপর ভোট পর্ব সম্পন্ন হয়েছে দলের। শুধু ভোটের সময় নয় সাংগঠনিকভাবে মানুষের পাশে থাকে তাঁর দল। এমনটাই জানালেন সিপিএম জেলা সম্পাদক প্রদীপ রায়। তিনি বলেন, “ভোটের পর থেকেই আমরা বিশেষ করে কোভিড কালে জনকল্যাণকর ও সামাজিক কাজে যুক্ত করেছি।” সংগঠন শক্তিশালী না থাকলে যে সমস্যায় পড়তে হয় এটা অবশ্য তিনি ভালই জানেন। কাজেই তাঁর এবং দলের লক্ষ্য অবশ্যই থাকছে যে সংগঠন মজবুতি আর বিস্তৃত করে তোলা।

